ইনস্টাগ্রাম মার্কেটিং যেভাবে করবেন

প্রযুক্তিনির্ভর যুগে সবকিছুই এখন ভার্চুয়াল জগতে চলে যাচ্ছে। এমনকি মার্কেটিং সেক্টর গুলো ইন্টারনেটে চলে আসছে। আর আসবেই না কেন, আমাদের দৈনন্দিন জীবনের কেনাকাটা গুলো অনলাইন শপিং থেকে করে থাকি। তাই প্রডাক্ট প্ল্যাটফর্ম গুলো অনলাইনে চলে আসতেছে।

প্রডাক্ট কিংবা তথ্য যেটাই হোক না কেন সেটা মার্কেটিং করার প্রয়োজন হয়। ম্যানুয়াল ভাবে মার্কেটিং এর পাশাপাশি অনলাইন মার্কেটিং করাটা এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনলাইনে বিভিন্ন ভাবে মার্কেটিং করা সম্ভব হয়। কিন্তু ইনস্টাগ্রামের মার্কেটিং এদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। এর মাধ্যমে নিজের সকল কিছু শেয়ার করা সম্ভব হয়। এজন্য আজ আপনাদেরকে ইনস্টাগ্রাম মার্কেটিং সম্পর্কে আলোচনা করব। তবে তার আগে জেনে নিতে হবে ইনস্টাগ্রাম সম্পর্কে কিছু তথ্য।

ইনস্টাগ্রাম কি এবং এর ব্যবহার

ইনস্টাগ্রাম একটি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম। যা সম্পূর্ণ অনলাইন ভিত্তিক। এতে কয়েক মিলিয়ন ব্যবহারকারী রয়েছে। তবে মজার বিষয় হচ্ছে যে এটি ফেসবুকের একটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান। এ প্লাটফর্মে ব্যবহারকারী তার নিজের ছবি, ভিডিও এবং লেখা অন্যদের সাথে শেয়ার করতে পারে। যা মুহূর্তের মধ্যে কারো ফলোয়ার ওদের কাছে পৌঁছে যায়। মূলত ইনস্টাগ্রাম দুটি শব্দের মিশ্রণে তৈরি করা হয়েছে। শব্দ দুটি হচ্ছে ইনস্ট্যান্ট ক্যামেরা এবং টেলিগ্রাম। ২০১০ সালে এ প্লাটফরমটি তৈরি করা হয়েছিল। যখন খুব জনপ্রিয়তা লাভ করে তখন, তারা এক বিলিয়ন ইউএস ডলারের বিনিময়ে ফেসবুকের কাছে বিক্রি করে দেয়। বিভিন্ন সময়ে এর ব্যবহারকারীর সংখ্যা নিম্নে উল্লেখ করা হলো

  • ২০১৭ সালে মোট ব্যবহারকারী ছিল- ৫৯৩.৭ মিলিয়ন
  • ২০১৮ সালে মোট ব্যবহারকারী ছিল- ৭০৬.৬ মিলিয়ন
  • ২০১৯ সালে মোট ব্যবহারকারী ছিল – ৭৬৬.৪ মিলিয়ন
  • সর্বশেষ ২০২০ সালে ইনস্টাগ্রামের মোট ব্যবহারকারীর ছিল- ৮৪৫.৫ মিলিয়ন।

এই পরিসংখ্যান হতে বুঝা যাচ্ছে যে ইন্সটাগ্রাম এর ব্যবহারকারী প্রতিবছর ক্রমশ বেড়েই চলেছে। মারকেটিং ক্ষেত্রে এই পরিসংখ্যানটি জানা অত্যন্ত জরুরী। আর বিভিন্ন পরিসংখ্যানে জানা যাচ্ছে যে ফটো এবং ভিডিও শেয়ারিং অ্যাপ বা সোশ্যাল মিডিয়া এর চাহিদা ক্রমশ বেড়েই চলছে থাকবে।

মার্কেটিং যেভাবে করবেন

বর্তমান যুগে, কোন কিছু ইন্টারনেটে দেওয়া হলে তা মুহূর্তে ভিতরে ভাইরাল হয়ে যায়। আর সবার মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। সেটা আপনার নিজের ছবি, ভিডিও, কিংবা প্রডাক্ট যাই হোক না কেন। সাধারণ ব্যবহারের ক্ষেত্রে এগুলো একাউন্ট তৈরি ছাড়া বাকি কাজ থাকেনা। কিন্তু প্রফেশনাল মার্কেটিংয়ের ক্ষেত্রে বেশ কিছু নিয়ম-কানুন মেনে চলতে হয়। তাই এগুলো সম্পর্কে আপনাদেরকে বলা হবে।

ইনস্টাগ্রাম মার্কেটিং করার জন্য আপনার একাউন্টে প্রচুর পরিমাণে ফলোয়ার থাকতে হবে। তা না হলে পর্যাপ্ত পরিমাণ সুফল পাবেন না। আর এই ফলগুলো বৃদ্ধি করতে হলে বেসিক কিছু স্টেপ এর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। আর মার্কেটিং শুরু করার পূর্বেই একাউন্ট এর কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নিতে হবে। এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে আপনার অ্যাকাউন্টটি বিজনেস অ্যাকাউন্ট কিনা।

বিজনেস একাউন্ট সেটআপ

ইনস্টাগ্রাম অ্যাপ ডাউনলোড করার পর যখন এটি ওপেন করবেন তখন ইনস্টাগ্রাম একাউন্ট রেজিস্টার করতে বলা হয়। অ্যাকাউন্ট খোলার সময় ফেসবুক এবং ইমেইল অ্যান্ড ফোন নাম্বার এর মাধ্যমে খোলার অপশন দেওয়া হয়। তখন বিজনেস ইমেইল ব্যবহার করে অ্যাকাউন্টটি তৈরি করতে হবে। এর ফলে অ্যাকাউন্টটি মূল ফেসবুকের সাথে যুক্ত থাকবে না। এভাবে খুললেই বিজনেস অ্যাকাউন্ট তৈরি হয়ে যাবে।

তবে রেজিস্ট্রেশন করার সময় যে নামটি দেবেন, সে নাম আপনার বিজনেস রিলেটেড কোন কিছু সম্পর্কে হতে হবে। এতে করে অন্যান্য ব্যবহারকারীরা সহজেই আপনার প্রোডাক্টের ওপর ধারণা নিতে পারবে। বাকি তথ্যগুলো অর্থাৎ ডিসক্রিপশন গুলো এভাবে সাজিয়ে লিখতে হবে। আর যতটা সম্ভব ইউজারনেম টি খুব সহজে রাখার চেষ্টা করবেন। যাতে করে ব্যবহারকারীগণ খুব সহজেই নামটা মনে রাখতে পারে।

ইনস্টাগ্রাম অপটিমাইজেশন

এখন ওপেন করার পর, এই একাউন্টে ভালোভাবে অপটিমাইজ করে নিতে হবে। এর সর্বপ্রথম কাজ হচ্ছে ভালো দেখে একটি প্রোফাইল পিকচার যুক্ত করা। কেননা কোন অন্য ব্যবহারকারী একাউন্টে ঢুকলে প্রোফাইল পিকচার সবার প্রথমে নজরে আসে। এজন্য এ ছবিটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় হতে হবে। ছবিটি যেন আপনার বিজনেস রিলেটেড হয় সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। পাশাপাশি বায়ো ডাটা গুলো সুন্দর ভাবে গুছিয়ে লিখতে হবে।

নিয়মিত পোস্ট এবং ফলোয়ার

সকল একাউন্ট সেটিং সেট আপ করার পর নিয়মিত বিজনেস রিলেটেড ইমেজ, ভিডিও এবং ইনফোগ্রাফিক্স আপলোড করতে হবে। যাতে করে ক্রেতাদের একাউন্ট এর প্রতি প্রফেশনাল ধারণা হয় এবং ফলো করতে শুরু করে। যখন ফলোয়ার বাড়াতে শুরু করবে তখন এর বিস্তৃতি আরো ঘটবে।

ইনফ্লুয়েন্সার

যখন আপনার ফলোয়ার পরিমাণে বৃদ্ধি পেতে থাকবে, তখন অন্যান্য ইনস্টাগ্রাম ইনফ্লুয়েন্সারদের সাথে পার্টনারশিপ করে নিতে হবে। তাদেরকে অনুরোধ করতে হবে যে আপনার প্রোফাইলটি একটি বিষয়ে সাত আউট করে দিতে। এতে করে তাদের প্রোফাইল এর মাধ্যমে আপনার বেশকিছু ফলোয়ার চলে আসবে। এদিকে খেয়াল রাখতে হবে নিজের বিজনেস রিলেটেড কারো সাথে শেয়ার করতে হবে।

ইনস্টাগ্রাম স্টোরিস ব্যবহার
নিজের ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইল এ নিয়মিত বিজনেস রিলেটেড পোস্ট করতে হবে এবং তা স্টোরিস এর মাধ্যমে শেয়ার করতে হবে।

ভিজ্যুয়ালি কম্পেলিং কনটেন্ট

এটি এমন একটি প্লাটফর্ম যেখানে সবকিছুই চোখের উপর নির্ভর করে থাকে। তাই এক্ষেত্রে ভিজুয়াল কনটেন্ট ব্যাবহার করা সবচেয়ে ভালো।

বিজ্ঞাপন

ফেসবুকের মতোই ইনস্টাগ্রামে টাকা দিয়ে বিজ্ঞাপন করা যায়। তাই নতুন অবস্থায় কিছু ভালো মানের কনটেন্ট দিয়ে পেইড প্রমোশন করলে সবচেয়ে ভালো হয়। তবে যখন একাউন্টটি ভালো পর্যায়ে পৌঁছবে তখন অন্যান্য ব্যক্তিরা আপনার একাউন্টে বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য আগ্রহী হবে।

হ্যাশট্যাগ ব্যবহার
প্রতিটি পোস্ট করার সময় বিজনেস রিলেটেড সবচেয়ে সার্চ কি-ওয়ার্ড দিয়ে দিতে হবে। এতে করে ক্রেতা বা হ্যাশট্যাগ এর মাধ্যমে পোস্ট গুলো খুব সহজেই খুঁজে পাবে। যার ফলে টার্গেটেড ফলোয়ারদের পাওয়া যায়।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে নাস।