কাঠবাদাম খাওয়ার সুফল

কাঠবাদাম আমাদের সবার কাছে অত্যন্ত প্রিয় একটি খাবার। বিশেষ করে গল্পগুজবের বা আড্ডার সাথে কাঠবাদাম যুক্ত হলে তা আরো জমিয়ে তুলে। শুধু আনন্দ খোরাক মেটানোর জন্য নয় বা মজাদার নয়। এ খাবারে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পুষ্টিগুণ উপাদান। যেমন জিংক, কপার, ম্যাগনেসিয়াম, আয়রন, ভিটামিন বি, ই, সেলেনিয়াম, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ইত্যাদি।

এগুলো প্রাকৃতিক উপাদান ছাড়াও আরও অনেক উপাদান এতে বিদ্যমান রয়েছে। যা আমাদের শরীর এবং মনের জন্য খুব উপকারী। কাঠবাদামকে শুধু বাদাম বলা যাবে না, ইহা এক প্রকার খাদ্য বিজ। সবচেয়ে ভালো কোয়ালিটির কাঠ বাদাম পাওয়া যায় একমাত্র উত্তর আফ্রিকান অঞ্চলে এবং পশ্চিম এশিয়াতে। কাঠবাদাম খাওয়ার কারণে কোষ্ঠকাঠিন্য, হূদযন্ত্রের নানা ধরনের সমস্যা সমাধান করে দেয়। বিশেষজ্ঞরা বলে থাকেন যে, প্রতিদিন এক মুঠো করে খাবার খেলে শরীরের সকল প্রকার ক্ষতি পূরণ করতে সাহায্য করে। কাঠ বাদাম খোসা না ছাড়ানো অবস্থায় খেলে বেশি উপকারী। চলুন আর দেরি না করে জেনে নেই কাঠবাদাম খেলে কি কি সুফল পাওয়া যায়।

হজম শক্তি বৃদ্ধি করা

যদি কাঠ বাদাম ভিজিয়ে নিয়মিত খাওয়া হয় তাহলে হজম শক্তি বৃদ্ধি পায়। কারণ এর গায়ে যে খোসা থাকে তাতে এক ধরনের উৎসেচক রয়েছে। ভিজিয়ে রাখার ফলে এর গায়ে আদ্রতা পেয়ে থাকে এবং ভেতরের অংশ নরম হয়ে যায়। যা খাবার হজম করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একে সাধারণত লিপেস নামে সবার কাছে পরিচিত। এতে থাকে প্রচুর পরিমাণে খাবার ফ্যাট আর অন্যান্য জটিল উপাদান যেগুলো হজমের কাজে সাহায্য করে।

শক্তি বৃদ্ধি করতে

কাঠবাদাম খেলে শরীরে শক্তি বৃদ্ধি পায় একথাটি ছোট থেকে বৃদ্ধ মানুষ পর্যন্ত তা জানে। এর ফলে তারা নিয়মিত সবাইকে বাদাম খাওয়ার জন্য উৎসাহিত করে থাকে। অনেকের দেখা গেছে প্রতিদিন সকাল বেলায় এক মুঠো করে বাদাম খেতে। বাদাম খেলে শক্তি বৃদ্ধি হয় কারণ এতে প্রাকৃতিক খনিজ উপাদানগুলো বিদ্যমান। যেমন – কপার, ম্যাঙ্গানিজ ও রিবোফ্লাভিন। শুধু শক্তি বৃদ্ধি করে না এ খাবার এর ফলে শরীরের হাড় ক্ষয় রোধ কমে যায়।

গর্ভাবস্থায় খাওয়ানো

গর্ভবতী মায়েদের কে নিয়মিত কাঠবাদাম পানিতে ভিজিয়ে খাওয়ালে মা ও সন্তান দু’জনকেই অনেক ভালো থাকে। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফলিক এসিড। যা নবজাতক জন্মের সমস্যা কমিয়ে দেয়। অর্থাৎ শিশুদের জন্মগত ত্রুটি প্রতিরোধের জন্য একটি সহায়ক। কাঠবাদাম খাওয়ার ফলে কোষ বৃদ্ধি এবং টিস্যু গঠন সুষ্ঠুভাবে হয়। এজন্য মা ও শিশুর স্বাস্থ্য ঠিক রাখার জন্য কাঠবাদাম খাওয়ার সুফল অনেক।

তারুণ্য ধরে রাখা

বাদাম হচ্ছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যুক্ত একটি খাবার। এই এন্টিএক্সিডেন্ট শরীরের রেডিকেলের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করে। যার কারণে বয়স বৃদ্ধির শারীরিক ছাপ গুলো দেখা যায় না। যার ফলে তারুণ্য দেখায় অনেকদিন পর্যন্ত।

কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা সমাধান

কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা সাধারণত পরিমিত পানি পান না করার ফলে হয়। আর খুব সহজে সমস্যা দূর করনের জন্য রয়েছে কাঠবাদাম। রাতের বেলায় কাঠ বাদাম ভিজিয়ে রেখে সকালে খোসা না ছাড়িয়ে খেলে উপকার পাওয়া যায়। কেননা এতে থাকে প্রচুর পরিমাণে আঁশ যা কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা দূর করতে সহায়ক। শরীরের পানির ঘাটতি পূরণ হয় এর মাধ্যমে। এছাড়া পরিপাকতন্ত্রের যাবতীয় সমস্যা থেকে দূর করতে নানা ভূমিকা পালন করে। তবে খুব বেশী বাদাম খাওয়ার প্রয়োজন নেই। প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ টি কাঠবাদাম ই যথেষ্ট।

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ সহায়ক

যাদের উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে তাদেরকে অবশ্যই কাঠ বাদাম খাওয়া অত্যন্ত জরুরী। এতে আছে কম পরিমাণে কিছু সোডিয়াম এবং বেশিমাত্রায় আছে পটাশিয়াম। এ উপাদানগুলো শরীরের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে থাকে। এর মধ্যে বিদ্যমান থাকা ম্যাগনেসিয়াম আর ফলিক এসিড রক্ত জমাট বাধাকে প্রতিরোধ করে।

দাঁত ও হাড় ক্ষয় রোধ

কাঠবাদামের বিদ্যমান মিনারেল, ভিটামিন এবং ফসফরাস। এগুলো দাঁতের মাড়ি এবং হারকে শক্তিশালী করে তোলে। যাদের হাড় ক্ষয়ের সমস্যা রয়েছে তাদের জন্য বাদাম একটি কার্যকরী ওষুধ হিসেবে কাজ করে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা

কাঠ বাদামে বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক উপাদান এবং খনিজ উপাদান বিদ্যমান থাকায় এটি শরীরকে সুস্থ রাখে এবং শক্তিশালী করে তোলে। এর কারণে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। ফুসফুসের রোগ এবং ক্যান্সারসহ বিভিন্ন ধরনের রোগ থেকে সুরক্ষা দিয়ে থাকে।

ডায়াবেটিস প্রতিরোধ

ডায়াবেটিস রোগীর হার বর্তমানে দিন দিন বেড়েই চলছে। এদের দেখা যায়, খাবারের তালিকা খুব কঠোরভাবে মেনে চলে থাকেন। এ খাবারের তালিকায় অবশ্যই কাঠবাদাম একান্ত জরুরী। কেননা কাঠবাদাম খাওয়ার কারণে গ্লুকোজ ও ইনসুলিনের মাত্রা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে প্রতিরোধ সৃষ্টি করে। ফলে অতিরিক্ত মিষ্টি যুক্ত খাবার খেলেও বেশি ইনসুলিন বেড়ে যায় না। কাঠবাদাম এর গ্লুকোজ প্রক্রিয়াকে শোষণ করে নিয়ন্ত্রণ করে ফেলে।

ত্বকের যত্ন

বিভিন্ন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ত্বকের যত্নে কাঠবাদাম খাওয়া এবং এর প্রক্রিয়াজাতকরণ বিভিন্ন ধরনের কসমেটিক ব্যবহার করতে বলেন। এছাড়া তারা আমন্ড অয়েল ব্যবহার করতে বলেন। এই তেলটি কাঠবাদাম থেকেই তৈরি। নিয়মিত কাঠবাদাম খেলে এবং ব্যবহার করলে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায় এবং নানা ধরনের কালো দাগ দূর হয়ে যায়। এছাড়া ত্বক যদি শুষ্কতা দেখা যায় তাহলে কাঠবাদাম বেটে মুখে লাগালে তা আস্তে আস্তে সেরে যায়।

ক্যান্সারের ঝুঁকি কমানো

বাদাম এ আছে ভিটামিন বি ১৭. যা ক্যান্সারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলে। তাই ক্যান্সারে আক্রান্ত ব্যক্তিরা নিয়মিত কাঠবাদাম খেতে পারেন। এতে করে ক্যান্সার এর পরিমাণ কমে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে নাস।