জাপানের কিছু সুস্বাদু খাবার

জাপান দেশের কথা নাম কি আমরা কমবেশি সবাই শুনে আছি। উন্নত দেশের তালিকা জাপান প্রথম দশটির মধ্যে একটি। তাদের জীবনযাত্রার মান সম্পর্কে জানা থাকলেও তাদের খাবার সম্পর্কে সবার তেমন ধারনা নেই। কিন্তু জানার আগ্রহটা সবার হয়েছে। তাই আজকে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করব জাপানিদের কিছু মজাদার এবং জনপ্রিয় খাবার সমূহের তালিকা।

সুকি ইয়াকি

এ খাবারটি জাপানের দিয়েছে কাছে অত্যন্ত প্রিয়। তারা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে কিংবা আত্মীয়-স্বজন বাসায় আসলে এই খাবারটি দিয়ে উপস্থাপন করতে তারা পছন্দ করেন। এ খাবারটি প্রধান উপকরণ হচ্ছে গরুর মাংস কিংবা মুরগি।

খাবার তৈরিতে যা যা ব্যবহার করা হয়:

  • হাড় ছাড়া একটি মুরগির রান।
  • দুইটি লম্বা পেঁয়াজ
  • চারটি টাটকা মাশরুম
  • এক টুকরো তফু
  • এক প্যাকেট শিরাতাকি
  • চারটি ডিম
  • ৪ টেবিল চামচ সয়া সস
  • ৩০ গ্রাম এর মত চিনি
  • ২০০ মিলিমিটার পানি

এসব উপকরণ দিয়ে খাবার পদটি তৈরি করা হয়ে থাকে। এই খাবারটি সর্বপ্রথম সন্ধান পাওয়া যায় সপ্তদশ শতাব্দীর মাঝখানে এসে। ইয়াকি অর্থ হচ্ছে রান্না। কিন্তু সুকি অর্থ কি তা নিয়ে বিভিন্ন জনের মতামত আছে । অনেকের ধারণা যে সুকি ইংরেজিতে স্পিড এবং বাংলায় কথা বলা হয়। তখনকার সময় এই মুরগী রান্না করার জন্য লোহার একটি ব্যবহার করতেন। সেখান থেকে এভাবেই এর নাম হয়ে এসেছে সুকি ইয়াকি। উনবিংশ শতাব্দীর পূর্বে জাপানিরা মাংস খেত না। পরবর্তীতে জাপানের টোকিও শহর বেশকিছু রেস্তোরাঁতে মাংস ও এর বিভিন্ন পদ পাওয়া যেত। তারপর আস্তে আস্তে সেখান থেকে সারা জাপান ছড়িয়ে পড়ে। তাদের বিভিন্ন পদের মধ্যে ছিল গরুর মাংসের সাথে পরিবেশন করা। আর এভাবে আস্তে আস্তে সুকি ইয়াকি রান্নার কায়দার সৃষ্টি হয়।

কাকি ফুরাই

কাকি ফুরাই হচ্ছে মূলত পারুটির গুরো ভিতরে ডুবোতেলে ওয়েস্টার ঝিনুক ভাজা। জাপানিদের সামুদ্রিক খাবারের ভিতরে এটি সবচেয়ে জনপ্রিয় খাবার। জাপানে ঝিনুকের মৌসুম হচ্ছে সেপ্টেম্বরের শেষ থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত। তবে ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি এগুলো ডিম ছাড়ে। শীত কালীন সময়ে জাপানের মার্কেট গুলোতে এ খাবারের ভিড় জমে যায়। শুধু এই ঝিনুক তেলে ডুবিয়ে খান্না তারা নানা উপায় রান্না করে খেয়ে থাকেন। তারা ভাতের সাথে রান্না করেন কিংবা একটি সসপ্যানে এর মধ্যে বিভিন্ন সবজি মাছ ইত্যাদি মিশ্রণ করে খায়। ওয়েস্টার ঝিনুক চাষ এর বেশ কিছু অঞ্চল রয়েছে সেখানে প্রচুর পরিমাণে ঝিনুক চাষ হয়ে থাকে। জাপানের হিরোশিমা নামটি আমরা কমবেশি সবাই জানি। এই হিরোশিমার 60% অঞ্চলে ঝিনুক চাষ করা হয়ে থাকে। সে অঞ্চলের মানুষজন নববর্ষ উপলক্ষে মুচি ভাতের কেক এর সাথে ঝিনুক খাওয়া একটি অপরিহার্য অংশ মনে করে। এ খাবার খেয়ে অনেকে কাকি ও ক বলে থাকেন।

খাবার তৈরিতে যা যা ব্যবহার করা হয়:

  • ষোলটি খোসা ছাড়ানো ঝিনুক
  • কিছু অল্প পরিমাণ লবণ
  • গোলমরিচের গুড়ো
  • একটি ডিম
  • অল্প পরিমাণে ময়দা
  • পাউরুটির গুরো
  • অল্প পরিমাণ তেল
  • বাঁধাকপি
  • লেবু
  • ওয়েস্টার সস
  • লাল পেঁয়াজ
  • শসা

অমু রাইস

এ খাবারটির প্রচলন শুরু হয়েছে জাপান থেকেই। মুরগির মাংসে দেওয়া ফ্রাইড রাইস এর পিছনে ধাচে ক্যাচাপ দিয়ে সুস্বাদু অমলেট তৈরি করার মাধ্যমে এ পদের সৃষ্টি। এই খাবারটি অনেককে ফরাসি খাবার এর মত। খাবারটি শিশুদের কাছে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। এ খাবারটি শুধু জাপানের নয় বিভিন্ন দেশেও এর জনপ্রিয়তা রয়েছে। তবে জাপানে এ খাবারের উপর ভিত্তি করে বেশ কয়েকটি রেস্তোরাঁ গড়ে উঠেছে। শুরুর পর থেকে এ খাবারের বেশকিছু সংস্করণ হয়েছে। খাবার তৈরিতে বেশ কয়েকটি ভাগ করা হয়েছে ফলে দাম ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে।

ওমু রাইস তৈরিতে যা যা লাগবে:

  • ৬০০ গ্রাম গরম ভাত
  • ১২০ গ্রাম পেঁয়াজ
  • ১২ গ্রাম মুরগির মাংস যা চামড়া ছাড়ানো থাকতে হবে
  • এক অথবা দুই কাপ টমেটো কেচাপ
  • ডিম ৬ টি
  • উদ্ভিদজাত তেল
  • গোলমরিচের গুঁড়ো এবং লবণ
  • রান্না করা অমলেট প্রলেপ দিতে অতিরিক্ত খানিকটা কেচাপ লাগতে পারে।

এরকম আরো প্রচুর মুখরোচক খাবার রয়েছে যেগুলো জাপানে খুবই জনপ্রিয়। সেই ফুডগুলো নিয়ে ইনশাআল্লাহ পরবর্তীতে আরো আর্টিকেল প্রকাশ হবে। সাথেই থাকুন!

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে নাস।