নেপালের জনপ্রিয় পর্যটন স্থান সমূহ

নেপাল হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে একটি ছোট দেশ। শুধু তাই নয় এটি সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। হিমালয়ের সৌন্দর্যের দরজা হিসাবে নেপাল সবচেয়ে বেশি পরিচিত। পুরো নেপাল যেন একটি হিমালয়ময় সৌন্দর্যে ঘেরা। চলুন দেরী না করে জেনে নেই নেপালের কিছু জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থান সম্পর্কে।

কাঠমুন্ডু

নেপালের রাজধানী হচ্ছে কাঠমন্ডু। এখানে প্রায় ৫০ লাখের বেশি মানুষ বসবাস করে। নেপালে ভ্রমণ করতে হলে সর্বপ্রথম কাঠমন্ডুতে এসে পৌঁছাতে হবে। নেপালে ভ্রমণকারীরা কাঠমুন্ডু সর্বপ্রথম পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে রেখে দেয়। রাখবে না কেন এখানে রয়েছে সারি সারি পাহাড় এর মনোরম দৃশ্য এবং বিভিন্ন ধরনের আর্কিটেকচারাল নিদর্শন। আরো কিছু কিছু স্থান রয়েছে যা অনেক সুন্দর সেগুলো হচ্ছে

পশুপতিনাথ মন্দির: হিন্দুদের সবচেয়ে নামকরা এবং পবিত্র মন্দির গুলোর মধ্যে পশু নাথ মন্দির সবচেয়ে বেশি বিখ্যাত। এটি তৈরি করা হয়েছে শিবের সেবার জন্য এবং সারা বিশ্বব্যাপী হিন্দুদের জন্য শিব পূজা করার সুযোগ। প্রতি বছর ভারত থেকে প্রচুর পরিমাণ লোক ছুটে যায় মন্দিরে। শুধু সাধারণ মানুষই নয় অনেক সাধুদের দেখা যায় এখানে।

স্বয়ম্ভুনাথ স্তুপ: নেপালের বিখ্যাত যতগুলো বৌদ্ধমন্দির রয়েছে তাদের মধ্যে এ মন্দিরটি প্রথম তিনটির মধ্যে একটি। এমন মন্দিরটি কাঠমুন্ডু শহরে পশ্চিম দিকে পাহাড়ের সর্বোচ্চ চূড়ায় অবস্থিত। এ মন্দিরটিতে যেতে হলে ৩৬৫ টি সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে হবে। সিঁড়িতে উঠবার আগে নজরে পড়ে বানরের দিকে। কারণ এর পাশেই রয়েছে ১০০ বানরের বসবাসের যা বহুদিন ধরেই চলে আসছে। নেপালিরা এসব বানরকে পবিত্র দু ত মনে করে। সেখানে লোকে মনের শোনা যায় যে বুদ্ধ দেইতির মাথার উকুন থেকে এসব বানরের জন্ম হয় এবং পরবর্তী সময় থেকে তারা এখান থেকেই বসবাস করতেছে।
এটি অনেক পূর্বে নির্মাণ করা হয়েছিল কিন্তু পঞ্চম শতকের শুরুর দিকে এর অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়। তবে আশার কথা হচ্ছে যে, ২০১৫ সালের বড় ভূমিকম্প এতে কোনো ক্ষতি করতে পারে নি। বেশিরভাগ সময়ই মন্দিরটি পর্যটক এর কারণে ভিড়ে ভারী হয়ে থাকে। এজন্য সকাল সাতটা থেকে স্থানে ঘুরতে যাওয়া ভালো। এর পাশেই রয়েছে অমিত দেবো পার্ক , পশ্চিমের স্তম্ভ, পূর্বের সিরি ইত্যাদি। তবে একটি নির্দিষ্ট ফি এর মাধ্যমে পুরো মন্দিরটি দেখা যায়। পুরোহিতদের কে আলাদা কিছু ফি দিলে তারা আপনাকে পুরনো মন্দির এর অভ্যন্তরে নিয়ে বিভিন্ন কিছু দেখাবে এবং ধর্মীয় রীতিনীতি সম্পর্কে বুঝিয়ে দিবে।

বৈদ্যনাথ স্তুপ: থানেশ্বর থেকে সাত কিলোমিটার দূরে এই স্তূপটি। পর্যটকদের কাছে আবশ্যক একটি জায়গা। এশিয়ার মধ্যে যতগুলো বড় স্তুপা রয়েছে তার মধ্যে এটি একটি। এই স্তূপটি এত বড় যে অনেক দূরে থেকে এটি দেখা যায়।

কোপান মনেস্ট্রি – এ জায়গাটি হচ্ছে কাঠমন্ডু একটি লুকায়িত স্থান। কারণ এখানে টিবেটান সাধুরা মেডিটেশন করার জন্য এসে থাকে। এ জায়গা থেকে কাঠমান্ডু শহরের 180° লুকিং ভিউ পাওয়া যায়। যার ফলে কাঠমুন্ডু শহরকে স্থান হতে ভালোভাবে উপভোগ করা যায়। পূর্বের সময়ে এ জায়গা সম্পর্কে বেশি লোক জানতো না। বিভিন্ন প্রচার প্রচারণার ফলে শুধু নেপাল নয় সারা বিশ্বে স্থানটির জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। স্থানে রয়েছে বিভিন্ন সময়ে আর্কিটেকচারাল সৌন্দর্য। যা গবেষকদের ও মন টেনে আনে।

থামেল: থামেল হচ্ছে কাঠমুন্ডুর সকল পর্যটকদের কেন্দ্রবিন্দু। কারণ এখানে রয়েছে হাজার হাজার হোটেল এবং বিভিন্ন ধরনের দোকান। এমনকি এখানে ড্রিংস বার রয়েছে। যাতে বসে বিভিন্ন দেশের লোকের সাথে পরিচিত হতে পারবেন। রাস্তায় রয়েছে দোকান ও ফের ওয়ালাদের হাঁকডাক। সেখান থেকে পছন্দের মত যে কোন কসমেটিক ও অন্যান্য সামগ্রী কিনতে পারবেন। এ দোকানপাট গুলো সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত খোলা থাকে। এখানে থামেল মার্ক হয়েছে। এটি হচ্ছে ওই এলাকার প্রধান রাস্তা যা বিভিন্ন রঙের পতাকা দিয়ে সাজানো থাকে। সেখানে সবাই ছবি তুলতে পছন্দ করে। বিশেষ করে এখানকার এর ধপ গন্ধ সবচেয়ে বিখ্যাত। তাই অনেকে এখান থেকে ধুপ গন্ধ কিনে নিয়ে আসেন।

গার্ডেন অফ ড্রিমস- গার্ডেন অফ ড্রিমস কিংবা স্বপ্নের বাগান হলো কাঠমুন্ডুর কায়সার অঞ্চলে। মূলত এটি একটি নিউ ক্লাসিক্যাল বাগান। পুরাতন গার্ডেন এর মধ্যে সবচেয়ে পুরাতন এই বাগানটি। ১৯২০ সালে এ বাগানে তৈরি করা হয় এবং ডিজাইন করা হয় আধুনিক ইউরোপিয়ান এর সাথে মিল রেখে। সকল প্রকার আর্কিটেকচারাল ভিউ এবং নানা ধরনের গাছ গাছালি সময় দেখার জন্য টুরিস্টরা এখানে ভিড় জমায়।

আসাম বাজার: এ বাজারটি আসানসোল নামে পরিচিত। বাজারে বিভিন্ন ধরনের তাজা ফলমূল এবং শাকসবজি পাওয়া যায়। বাড়িতে বা হোটেলে বানানো বিভিন্ন ধরনের খাবারের মসলা সব কিছু এখানে সহজে পাওয়া যায়। এখানে রোজকার কৃষকরা তাদের পণ্য বিক্রি আসে। এ বাজারটি অন্যান্য সুপার মার্কেট এর মত কাজ করে। যার ফলে পর্যটকদের সাথে স্থানীয় কৃষকরা সরাসরি পণ্য বিক্রি করার সুযোগ পায়। আর এ বাজারটি অনেক বড় হয়। যার ফলে এটি নেপালের সকল বাজারের চেয়ে প্রথম স্থানে রয়েছে। পর্যটকগণ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনার জন্য এখানে আসেন। এ বাজারের সাথে রয়েছে অন্নপূর্ণা ও কৃষ্ণ নামে দুটি মন্দির। যেগুলো দেখতে অনেক সৌন্দর্যময়। সৌন্দর্যের কারণেই এ দুটি মন্দির বিখ্যাত।

কাঠমুন্ডু তে ঘুরতে যাওয়ার উপযুক্ত সময় হচ্ছে অক্টোবার এবং নভেম্বর মাস। এ সময় হালকা শীত পড়তে শুরু করে। আকাশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকায় ঘুরে আরাম পাওয়া যায় এবং সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। ঘোরার সময় অবশ্যই উনার কাজ নিয়ে ঘোরা ভালো। বর্ষার সময় গেলে সব সৌন্দর্য উপভোগ করার সুযোগ পাবেন না। এজন্য গরম হওয়ার শীতের মাঝামাঝি ভ্রমণ করাই ভালো।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে নাস।