ভারতের চমকপ্রদ কিছু পর্যটন স্থান

যারা পর্যটন প্রেমী তারা শুধু নিজের অংশটুকুতে সীমাবদ্ধ থাকেনা। তাদের মন ঘুরতে থাকে বিভিন্ন দেশের আকর্ষণীয় এবং দর্শনীয় স্থান গুলোর প্রতি। তাই তাদের সামর্থ্য হলেই ছুটে বেড়ায় দেশ-বিদেশে সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য। এ পোস্টের মাধ্যমে আমাদের পাশের দেশ ভারতের দর্শনীয় স্থান গুলো নিয়ে আলোচনা করা হবে।

ভারতের কিছু দর্শনীয় স্থানগুলো হচ্ছে:

১. আগ্রার তাজমহল

আগ্রার তাজমহলটি সম্রাট শাহজাহান তার দ্বিতীয় স্ত্রীর জন্য নির্মাণ করেছিলেন। তার স্ত্রীর নামে এর নামকরণ করা হয়েছে। চতুর্থতম কন্যা জন্মদানের সময় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার প্রতি ভালোবাসা শ্রদ্ধা দেখেই নিদর্শন হিসেবে এ মহল নির্মাণ করেন। নির্মাণ কাজ শুরু করা হয় ১৬৩২ সালে এবং কাজ শেষ করা হয় ১৬৫৩ সালে। এটি ইউনেস্কো কর্তৃক বিশ্বের ঐতিহ্যবাহী স্থান বলে তালিকাভুক্ত হয়েছে।
এ তাজমহল ৪২ একর জমি জুড়ে অবস্থান করেছে। এ মহলকে পাঁচটি অংশে বিভক্ত করা হয়েছে । আর সেগুলো হচ্ছে – প্রধান প্রবেশদ্বার, মসজিদ, বাগান অতিথিশালা ও চারটি মিনার বিশিষ্ট মমতাজের সমাধি সৌধ। এর মূল চত্বরটি দূর্গের মত করে মোট তিন দিক থেকে প্রাচীরে ঘেরা। আর এ প্রাচীরের বাইরে রয়েছে সম্রাট শাহজাহানের অন্যান্য স্ত্রী এবং মমতাজ এর সমাধি। প্রতিটি প্রাচীর এর ভেতরের দেয়ালে নকশা খচিত কারুকাজ করা হয়েছে। আর এর পাশে গম্বুজাকৃতি একটি স্থাপত্য গড়ে তোলা হয়েছে। যা বর্তমান সময়ে জাদুঘর হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তাজমহলের প্রধান প্রবেশদ্বার মার্বেল পাথর দিয়ে তৈরি। এটি মোগল স্থাপত্য এবং নকশা খচিত। মূল চত্বরের দুই দিকে আলাদাভাবে লাল রংয়ের মসজিদ এবং মুঘল অতিথিশালা আছে।

এর সামনের চত্বরে রয়েছে একটি চরবাগ। যা স্বর্ণের বাগান হিসেবে সবার কাছে পরিচিত। সবচেয়ে উঁচু প্রাচীরে ৪ টি আলাদা আলাদা ফুলের বাগান রয়েছে। বিভিন্ন ধরনের গাছ গাছালিতে ঘেরা চলাচলের রাস্তা সহ সুন্দর কয়েকটি ঝর্ণা আছে। সমাধি অংশ এবং প্রধান গেটের মাঝখান বরাবর একটি মার্বেল পাথরের তৈরি চৌবাচ্চা আছে। সেখানকার পানিতে পুরো তাজমহলের প্রতিফলিত হয়। আর প্রতিফলিত রূপ দেখার জন্য অনেকে এ স্থানে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকেন।

সমাধির ভিতরে রয়েছে একটি অন্দরমহল যা অষ্টভুজ আকৃতির। এর পুরোটাই খোদাই করা অর্ধবৃত্তাকার মার্বেল পাথর দিয়ে তৈরি করা। সেখানে সম্রাট শাহজাহান এর সমাধিস্থল রয়েছে। দামি সমাধি স্থল থেকে প্রায় ৮০ ফুট নিচে ভাস্কর্যশিল্পে নির্মিত মোর সমাধি সৌধ। পূর্নিমা রাতের সময় এর সমাধি ওপর চাঁদের আলো প্রতিফলিত হয় তখন চারপাশে এক অপার্থিব সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। তাই এ সৌন্দর্য উপভোগ করতে হলে পূর্ণিমার রাতে যাওয়া ভালো।

কমপ্লেক্সের ভিতরে দুরা কৌশল ব্যবহার করে মূল্যবান জ্যামিতিক ও ফুলের নকশা কোরআন শরীফের আয়াত সুন্দরভাবে খোদাই করে রাখা হয়েছে। এ থেকে বোঝা যায় তিনি ইসলামিক বিষয়ে যথেষ্ট চিন্তাশীল ছিলেন।
লোকমুখে প্রচলিত আছে যে, সম্রাট শাহজাহান তার শেষ জীবনে যমুনা নদীর তীরে এবং আমল এর বিপরীত পাশে আরেকটি তাজমহল নির্মাণ করতে চেয়ে ছিলেন। আর এ মহলের নামকরা হয় কালা তাজমহল। কেননা এখানে সূর্য ও চাঁদের আলোয় তাজমহলের পরিবর্তিত অপরূপ সৌন্দর্য দেখা মেলে। কাল মার্বেল দিয়ে এই তাজমহলটি তৈরি করা এবং দুর্গের ব্রীজের মাধ্যমে তাদের সাথে সংযুক্ত করা হয়েছে।
এই দুর্গ থেকে প্রায় ১ মাইল দূরে যমুনা নদীর ডানদিকে মুঘল আমলে সেনাদের একটি দুর্গ তৈরি করা হয়েছিল। পরবর্তীতে শাহজাহানের নেতৃত্বে রাজপরিবারের বস স্থান এর জন্য রাজকীয় নানাজনে কর্মকাণ্ড করা হয় ওই দুর্গটিকে।
প্রতিবছর বিভিন্ন দেশ থেকে আগ্রা তাজমহল টি দেখতে আসেন। তবে শীতকালীন সময়ে এ জায়গায় ভ্রমণ করলে আরো অনেক সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়।

ভারতের সিকিম

ভারতের সিকিম স্থান হচ্ছে ভারতের একটি ক্ষুদ্র রাজ্য। আকারে ক্ষুদ্র হলেও প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে এটি অত্যন্ত জনপ্রিয় পর্যটন শহর। শুধু ভারতের কাছে নয় সারা বিশ্বব্যাপী এর জনপ্রিয়তা রয়েছে। ভারতের উত্তর-পূর্ব অবস্থিত সিকিমকে ঘিরে রয়েছে নেপাল ভুটান পশ্চিমবঙ্গ এবং তিব্বত। এর আয়তন সাত হাজার বর্গ কিলোমিটার এবং মোট জনসংখ্যা হচ্ছে। সিকিমের বৃহত্তম শহর হচ্ছে গ্যাংটক। বাংলাদেশ থেকে খুব সহজেই এবং কম খরচে প্রমাণ করার জন্য এ স্থানটি সবচেয়ে উপযুক্ত। বাংলাদেশের বেশিরভাগ পর্যটক প্রেমীদের কাছে এর চাহিদা শীর্ষ পর্যায়ে।

সিকিমে বেশ কিছু দর্শনীয় স্থান। তবে এর মধ্যে টুরিস্ট স্পট গুলো হচ্ছে গ্যাংটক, লাচুং এবং পেলিং শহর।

গ্যাংটক
সিকিমের প্রধান শহর হচ্ছে গ্যাংটক। এখানে রয়েছে তিব্বত বৌদ্ধ কেন্দ্র এবং হিমালায়ান শীর্ষ ট্রাকিং। এই স্থান থেকে বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানের সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। দূরবর্তী গাছগাছালি এবং পাহাড়ের সৌন্দর্য খুব সহজেই দেখা মেলে। এখানে রয়েছে তিব্বতিয়ান সংস্কৃতি। এসব এলাকায় ঘুরে তাদের সংস্কৃতি সম্পর্কে এবং জীবনযাত্রার মান সম্পর্কে জানতে পারা যায়। তাছাড়া রয়েছে হনুমান টক মন্দির হতে পার্বত্য ভ্যালি পর্যন্ত নজরকাড়া পাহাড়ি ভিউ।

পেলিং
পেলিং সিকিমের পশ্চিমাঞ্চলের একটি ছোট শহর। এখানে স্কাইওয়াক পেলিং এর সাহায্যে উপর থেকে নিচে সৌন্দর্য খুব ভালোভাবে দেখা যায়। অ্যাডভেঞ্চার প্রেমীদের কাছে এটি খুবই প্রিয়। এর সাথে রয়েছে কমলা, কাঠবাদাম, এলাচ এবং অরেঞ্জ গার্ডেন। এসব গার্ডেনে প্রবেশ করার জন্য ১০ রুপি প্রবেশ ফি দিতে হয়। আরো আছে ৩০০ বছরের পুরনো মোনাসটি এর স্থাপত্য শৈলী। এ সৌন্দর্য পর্যটকদেরকে আকর্ষণ করে টেনে নেয়।

এছাড়াও অন্যান্য আরো দর্শনীয় স্থান রয়েছে সিকিমে। এর পুরো দৃশ্য উপভোগ করতে হলে দুই থেকে তিন দিন সময় লেগে যায়। তাই সপ্তাহ খানেক সময় নিয়ে এ স্থান ভ্রমণ করা ভালো।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে নাস।