মাইক্রোসফট উইন্ডোজ কি এবং এর সুবিধা সমূহ

কম্পিউটার ব্যবহারকারীরা মাইক্রোসফট উইন্ডোজ সম্পর্কে জানেনা এমন কোন ব্যক্তি নেই। এছাড়া প্রযুক্তির সাথে যুক্ত কমবেশি সবাই এ সম্পর্কে জানা রয়েছে। পৃথিবীজুড়ে বেশিরভাগ কম্পিউটার ব্যবহারকারীদের মাইক্রোসফট উইন্ডোজ ব্যবহার করা দেখা গেছে। এমনকি কিছু কিছু স্মার্টফোনেও উইন্ডোজ ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

যদিও অনেকে উইন্ডোজ ব্যবহার করে থাকেন কিন্তু কিছু মানুষ এর পূর্ণ ব্যবহার সম্পর্কে জানেন না। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ফিচার এবং প্রতি বছর আপডেট হতে থাকে। তবে চিন্তার কোন কারণ নেই এ পোস্টের মাধ্যমে আপনাদের সকল প্রকার সংশয় দূর করে দেয়া হবে।

মাইক্রোসফট উইন্ডোজ যা

উইন্ডোজ হচ্ছে একটি কম্পিউটার অপারেটিং সিস্টেম। কিন্তু বর্তমানে আরও অন্যান্য ডিভাইস ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে। যেমন: স্মার্টফোন, ট্যাবলেট ইত্যাদি। এই অপারেটিং সিস্টেমের মাধ্যমে এগুলো ডিভাইসকে নিয়ন্ত্রণ বা পরিচালনা করা হয়ে থাকে। এই অপারেটিং সিস্টেম হচ্ছে পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং বিখ্যাত। প্রতিবছরের উন্নত মানের ফিচারগুলো যুক্ত হচ্ছে। বিশেষ করে গ্রাফিক্যাল ডিসপ্লে গুলো। তবে বর্তমান সময়ে এর os ভার্সন সবার কাছে প্রিয় হয়েছে। এ আধুনিক অপারেটিং সিস্টেম আগমন হওয়ার পূর্বে আগে ব্যবহারকারীরা Ms Dos এর কমান্ড লাইন ব্যবহার করে কাজ সম্পন্ন করতেন।

যখন একটি কম্পিউটার বা অন্য কোন ব্যবহৃত উইন্ডোজ ইন্সটল করা হয় তখন কম্পিউটার ব্যবহার করার জন্য উপযোগী হয়। কারণ ইন্সটল করার পর খুব সহজে কম্পিউটারের বিভিন্ন কাজ সম্পন্ন করা যায়।

সর্বপ্রথম ১৯৮৩ সালে উইন্ডোজ তৈরি করে মাইক্রোসফট এর যাত্রা শুরু হয়। এরপর প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে এটি নতুন ভার্সনে আপডেট হতে থাকে। এর সর্বশেষ ভার্সন হচ্ছে উইন্ডোজ ১০. এ অপারেটিং সিস্টেম মূলত ঘরের কাজে এবং অফিশিয়াল থাকা যেকোনো কাজে বেশি ব্যবহার করা হয়ে থাকে। আশাকরি এতোটুকু এতে বুঝতে পেরেছেন যে উইন্ডোজ কি।

সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

মাইক্রোসফট এর প্রতিষ্ঠাতা হচ্ছে বিল গেটস। এর একটি অংশ হচ্ছে উইন্ডোজ। তবে মজার ব্যাপার হচ্ছে যে তিনি বেশ কয়েকবার বিশ্বে সেরা ধনীর তালিকায় এক নম্বর ছিলেন। সর্বপ্রথম উইন্ডোজ ১.০ আবিষ্কার করা হয় ১৯৮৫ সালে। এর আগেও অন্যান্য ফিচারস ছিল। তবে উইন্ডোজ ১.০ এরপর থেকে নতুন নতুন যত ফিচার আসতে শুরু করে সবগুলো ব্যবহারকারীদের কাছে অনেক জনপ্রিয়তা লাভ করে। কিন্তু প্রথমদিকে মাইক্রোসফট এবং উইন্ডোজ কে আলাদা ভাগে ভাগ করে দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে আবার সংযুক্ত করা হয়।

যে কারণে উইন্ডোজ নামকরণ করা হয়

সাধারন ভাবেই আপনার মনে প্রশ্ন জাগতে পারে যে একটি অপারেটিং সিস্টেমের এরকম নাম কেন রাখা হয়েছে। চলুন দেরী না করে এর রহস্য জেনে নেই।

প্রথম ধাপে এ অপারেটিং সিস্টেম ছিল কমান্ডলাইন ইন্টারফেস। এখানে ভিন্ন ভিন্ন কমান্ড লাইন ব্যবহার করে কম্পিউটারের বিভিন্ন নির্দেশনা দিয়ে থাকতো। অর্থাৎ যে এপ্লিকেশন ওপেন করা হতো না কেন আলাদা আলাদা উইন্ডোজ স্ক্রিনে অপেন হত এবং দেখা যেত। যা একটি ঘরের মধ্যে ছোট ছোট জানালার মত। তাই এর নামকরণ করা হয় উইন্ডোজ। আর আলাদা আলাদা উইন্ডোজ ওপেন হওয়ার ফলে multi-tasking কাজ খুব সহজে করা সম্ভব হয়।

অপারেটিং সিস্টেম বলতে যা বোঝায়

মাইক্রোসফট উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম তাই অপারেটিং সিস্টেম বিষয়টা কি তা একটু জেনে নিতে হবে। অপারেটিং সিস্টেমকে এক ধরনের সফটওয়্যার ও বলা হয়ে থাকে। এর মূল কাজ হচ্ছে কম্পিউটারের হার্ডওয়ার, সফটওয়্যার ইত্যাদি সকল বিষয় গুলো কে সঠিকভাবে পরিচালনা করা। যাতে করে কম্পিউটারের সকল প্রোগ্রামিং কাজ সহজে করা সম্ভব হয়।

ভিন্ন অর্থে বলা যায় যে অপারেটিং সিস্টেম হচ্ছে কম্পিউটার এবং ব্যবহারকারীর মধ্যে সংযোগ স্থাপনকারী। কারন কম্পিউটার হচ্ছে একটা মেশিন যা আমাদের ভাষা বা নির্দেশনাগুলো বুঝতে পারেনা। এতে কোন অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করলে তা সহজে একে অপরের নির্দেশনাগুলো বুঝতে পারে। অর্থাৎ এর ইনপুট-আউটপুট সহজ ভাবে সমাধান করা যায়।

বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা:

উইন্ডোজ ৭ – লো কনফিগারেশন কম্পিউটার বা ল্যাপটপের জন্য উইন্ডোজ ৭ ব্যাবহার করা সবচেয়ে ভালো। কারণ এর সাহায্যে দ্রুত কাজ করা সম্ভব হবে। এতে আধুনিক ফিচার এবং সফটওয়্যার সাপোর্ট পাওয়া যায়।

উইন্ডোজ ১০ – মাইক্রোসফট উইন্ডোজ এর সর্বশেষ আপডেট হচ্ছে উইন্ডোজ ১০. ভার্সনটি শুধু আমার আপনার কাছে নয় সবার কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। এতে রয়েছে সকল প্রকার সিকিউরিটি, আপডেট ফিচার এবং ফেয়ারওয়েল অপশন। যা অপারেটিং সিস্টেমকে আরো অধিক গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। এটি ইনস্টল করার পুর্বে খেয়াল রাখতে হবে যে, কম্পিউটারের কনফিগারেশন কমপক্ষে ৪ জিবি রাম এবং ডুয়াল কোর প্রসেসর। তা না হলে পর্যাপ্ত পরিমাণ সুবিধা পাওয়া যাবে না।

ব্যবহারের সুবিধা

এ অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করা অত্যন্ত সহজ। যা সাধারণ মানুষ খুব সহজেই চালনা করতে পারে। এছাড়া এতে হার্ডওয়ার সাপোর্ট দেওয়া থাকে। যার ফলে কম্পিউটারের হার্ডওয়ার কনফিগারেশন কম হলেও পরিচালনা করে আরাম বোধ হয়। উইন্ডোজ ১০ এ গেমিং সাপোর্ট পাওয়া যায়। এর জন্য আলাদা একটি সফটওয়্যার তৈরি করেছেন তারা। তবে সবচেয়ে মজার ব্যাপার হচ্ছে মাইক্রোসফট উইন্ডোজ সারা পৃথিবী জুড়ে যে কোনো কম্পিউটার শপে সহজেই কিনতে পারা যায়। তবে এর ফ্রি ব্যবহারকারীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।

তবে এর পূর্ণ সুবিধা ভোগ করতে হলে এর প্রিমিয়াম ভার্সন ব্যবহার করা ভালো। এক্ষেত্রে কিছু টাকা খরচ করতে হয় যা সবার পক্ষে সম্ভব না। তবে এর নতুন আপডেট অটোমেটিক চালু হওয়ার কারণে প্রচুর পরিমাণে ইন্টারনেট অপচয় হয়। এজন্য অটো আপডেট বন্ধ করে নেওয়াই ভালো।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে নাস।