রাঙামাটির কাপ্তাই লেক সম্পর্কে

যদি আপনি প্রকৃতি জলরাশি প্রেমী হয়ে থাকেন তাহলে আজকের এই ভ্রমণ গাইড শুধুমাত্র আপনার জন্য। কেননা আজ আপনাদের সামনে উপস্থাপন করতে যাচ্ছি বাংলাদেশের বৃহত্তর লেক নিয়ে। আর এই লেকটি হচ্ছে কাপ্তাই লেক। জলরাশি প্রেমীদের বারবার টেনে নিয়ে যায় এই কাপ্তাই লেকে প্রতিবছর। কেননা সেখানকার সৌন্দর্য্যে মুগ্ধ হয় তারা বারবার।

সেখানকার পাহাড় থেকে লেকের সৌন্দর্য সবচেয়ে ভালো করে উপভোগ করা যায়। সেখানে রয়েছে প্যারাডাইস পিকনিক স্পট। সেখানে দলবেঁধে নৌবিহার অথবা প্যাডেল বোট করে পুরো লেক ভ্রমণ করতে পারেন। এছাড়া আপনি নিজস্ব স্পিডবোট কিংবা নৌকার রিজার্ভ করে নিয়ে পুরো লেক ঘুরতে পারবেন। এর পাশাপাশি দেখার মত রয়েছে ঝুলন্ত ব্রিজ, শুভলং ঝর্ণা ইত্যাদি। এছাড়া রাঙ্গামাটি শহরটি অত্যন্ত সুন্দর। এখানে আরো অনেক স্পট রয়েছে সেখান থেকেও ঘুরে আসতে পারেন। খুব কাছে রয়েছে কর্ণফুলী নদীর তীরে কায়াকিং করার ব্যবস্থা। যদি আপনার সময় থাকে তাহলে এই অভিজ্ঞতাটা নিয়ে নিতে পারেন। শেখ রাসেল পার্কে রয়েছে কেবল কার। যদি এই মজাটা উপভোগ করতে চান তাহলে অবশ্যই শেখ রাসেল ইকো পার্কে ঘুরে আসবেন। এছাড়া কাপ্তাই উপজেলা তে রয়েছে বিভিন্ন পাহাড়ের সমাহার।

সংক্ষিপ্ত বিবরণ

পাহাড়ি চট্টগ্রামের বুকে অপরূপ প্রকৃতির দৃশ্য নিয়ে মাথা উঁচু করে অবস্থান করছে রাঙ্গামাটি জেলা। আরে সেই জেলাতে অবস্থান করছে কাপ্তাই উপজেলা। এখানে রয়েছে অনন্য পাহাড় এবং চলরাশির চোখ জুড়ানো মনোরম দৃশ্য। কাপ্তাই লেকের মত বিস্তৃত হচ্ছে ১১০০০ বর্গ কিলোমিটার। এটিকে কৃত্রিম লেক বলা হয়। এটি দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে আয়তনে সবচেয়ে বড় লেক। একদিকে রয়েছে ছোট-বড় অনেক পাহাড় এবং তার নিচের দিকে বয়ে চলেছে আঁকা বাঁকা পাহাড়ি রাস্তা। সবুজ সমারোহ সাথে জলরাশির মিতালীর ঢেউ যেন পুরো কাপ্তাই কে মাতিয়ে রেখেছে। এই লেকের রয়েছে বিভিন্ন উদ্ভিদ ও প্রাণীর সমারোহ। জলরাশি চারদিকে রয়েছে ছোট ছোট দ্বীপ। সেখানে নানা ধরনের পাখি ও জল কেন্দ্রিক মানুষের জীবনযাত্রা দেখে আপনি মুগ্ধ না হয়ে থাকতে পারবেন না।

লেকটি সম্পূর্ণ কৃত্রিম হলেও প্রকৃতি তার সৌন্দর্যকে উজাড় করে ঢেলে দিয়েছে। বর্ষাকালে কাপ্তাইয়ের সৌন্দর্য পুরোপুরি উপভোগ করা যায়। কেননা এ সময় ঝর্ণাগুলো তার পরিপূর্ণ রূপ দেখা মেলে।

ভৌগলিক ও ইতিহাস

তৎকালীন সময়ে অর্থাৎ ১৯৫৬ সালে পাকিস্তান সরকার বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য কাপ্তাইয়ের কর্ণফুলী নদীর উপরে কাপ্তাই বাঁধ নির্মাণ করেন। এই নির্মাণ কাজ সম্পূর্ণ আমেরিকার অর্থায়ন করা হয়। আর এই বাঁধটি প্রায় রাঙ্গামাটির ৫৪ হাজার একর আবাদি জমির উপর তৈরি করা হয়। লেকটি অনেকটা ইংরেজি অক্ষর এইচ এর মত। লেকটি এত বড় যে পুরোটা করতে স্পিড বোর্ড এর মাধ্যমে সারাদিন লেগে যেতে পারে।

মৎস্য উন্নয়ন

এই লেকটি মূলত বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য তৈরি করা হলেও প্রচুর পরিমাণে মৎস্য চাষ করা হয়। কেননা এখানে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণ এর মানুষ সৃষ্ট স্বাদু পানি। সাম্প্রতিক সময়ে কাপ্তাই লেকের চারপাশে কীটনাশক রাসায়নিক সার ব্যবহার করা হচ্ছে। যার ফলে মাছ চাষে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এখানে। কিছুদিন আগের এক পরীক্ষায় দেখা গেছে যে ১৯৮৫ সালে লেকে প্রধান মাছ রুই। কিন্তু এখন বর্তমানে তা অনেক পরিমাণ কমে গেছে। কিন্তু অন্যদিকে সামুদ্রিক মাছের অনুপাত দিন দিন বেড়েই চলেছে। আবার ১৯৬৬ সালে মোট মাসের মধ্যে বড় মাছের পরিমাণ ছিল ৭৮% অংশ। কিন্তু ১৯৯৩ সালে এর পরিমাণ এসে দাঁড়ায় ২ শতাংশ ।

শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর তা নয়। আমাদের জন্য বেশ উপকারী কাপ্তাই লেক। কারণ নৌবিহার ছাড়াও বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও কৃষি আবাদ জমিজমা ইত্যাদি’তে অবদানে ভূমিকা পালন করছে। আমরা সেখানে ভ্রমণের সময় অবশ্যই এ দিকটা খেয়াল রাখব যে যাতে আমাদের এই সম্পদ নষ্ট না হয়ে যায় এমন কাজ থেকে বিরত থাকা।

রাঙ্গামাটিতে ভ্রমণ করলে কাপ্তাই লেকের পাশাপাশি সাজেক ভ্যালি, ঝুলন্ত ব্রিজ, রাজবন বিহার, হাজাছড়া ঝরনা, হ্যাপি আইল্যান্ড ইত্যাদি স্থান থেকে ঘুরে আসতে পারেন। তাহলে এ ক্ষেত্রে বাড়তি খরচ কম হয় এবং সময়ও বেঁচে যায়।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে নাস।