সঠিক উপায়ে শ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহণ এবং এর উপকারিতা

পৃথিবীর সকল প্রাণীকুল নিয়মিত শ্বাস প্রশ্বাস এর ফলেই বেঁচে আছে। মানুষ ও অন্যান্য প্রাণী বায়ু থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করে থাকে। আর শুধু গাছ কার্বণ-ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে। যদি আমাদের শ্বাস-প্রশ্বাস কয়েক মিনিটের জন্য বন্ধ হয়ে যায় তাহলে মৃত্যু নিশ্চিত। অর্থাৎ এটি আমাদের বেঁচে থাকার জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।

তাই এর প্রতি যত্নশীল এবং সতর্ক থাকা আমাদের অত্যন্ত জরুরী। আমরা সাধারণভাবে যে শ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহণ করি তাতে শুধুমাত্র বেঁচে থাকার জন্য চাহিদাটুকু পূরণ হয়। এর বাইরে কিছু নিয়ম আছে যে নিয়মগুলো মেনে চললে আমরা আরো সুস্থ সবল থাকবো এবং দীর্ঘ আয়ু পাব।

আমরা মিনিটে ১৮ বার, ঘন্টায় ১৮০ বার, প্রতিদিন ২৫০০০ বারের বেশি শ্বাস গ্রহণ করে থাকি। এটি হচ্ছে স্বাভাবিক একজন ব্যক্তির শ্বাস গ্রহণের পরিমাণ। যদি এর থেকে কম বা বেশি হয় তাহলে কতটা কষ্ট হয় তা আমরা মাঝেমধ্যে বুঝতে পারি। তাই আমাদের জানা উচিত যে কোন পরিবেশে কিভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহণ করা এবং কোন সমস্যা হলে তা কিভাবে সমাধান করতে হবে তা জানা।

শ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহণ এর মাধ্যম

মানুষ সহ বেশকিছু প্রাণী নাকের মাধ্যমে শ্বাস নিয়ে থাকে এবং নিঃশ্বাস বের করে। আবার মুখে মাধ্যমে শ্বাসকার্য চালানো সম্ভব হয়। তবে নাক দিয়ে শ্বাস প্রশ্বাস নেওয়াই হচ্ছে প্রধান মাধ্যম।

তাই এ পোস্টের মাধ্যমে আমরা এ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করে আপনাদের পূর্ণ ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করব।

নাক দিয়ে শ্বাস প্রশ্বাস গ্রহণের বিভিন্ন সুবিধাসমূহ হচ্ছে

মস্তিষ্ক সক্রিয়করণ
নাক দিয়ে শ্বাস প্রশ্বাস গ্রহণ করলে মস্তিষ্ক অনেক ভালো থাকে। কারণ এতে করে অক্সিজেন সরাসরি মস্তিষ্ক ঘুরে আবার নাক দিয়ে কার্বন ডাই অক্সাইড বের হয়ে যায়। এতে করে মস্তিষ্ক শীতল থাকে এবং সক্রিয়ভাবে কাজ করতে শুরু করে।

অক্সিজেন সরবরাহ
এর মাধ্যমে অক্সিজেন গ্রহণ করলে তা শ্বাসনালীর মাধ্যমে রক্তে অল্প অল্প ছড়িয়ে পড়ে। এর কারণে রক্তের থাকা বিদ্যমান কোন ক্ষতিকারক পদার্থ থাকলে তা ধ্বংস করতে সাহায্য করে। যার ফলে রোগ মুক্ত থাকা যায়।

ফুসফুস নিরাপদে রাখা
যেসব রোগ জীবানু এবং ময়লা নাকের মাধ্যমে ঢুকে যায় আর সেগুলো বের হয় না। তা নাকের শ্লেষ্মা এর কাছে এসে নিষ্ক্রিয় হয়ে যায় এবং মরে যায় পরবর্তীতে হাঁচি আকারে তা বেরিয়ে আসে। আর নাকের মাধ্যমে নেওয়া নিঃশ্বাস ফুসফুসের সরবরাহ হয়ে তা পরিষ্কার করে দেয় এবং বিশুদ্ধ বাতাস ফুসফুসকে ভালো রাখতে সহযোগিতা করে। এজন্য নাক দিয়ে শ্বাস গ্রহণ করা ফুসফুসের জন্য অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ।

প্রতিরক্ষা
শুধু নাকের মাধ্যমে শ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহণ করার জন্য কার্যকরী নয়, এটি নানা ধরনের বাইরের আক্রমণ থেকে রক্ষা করে থাকে। এই অঙ্গের সাহায্যে আমরা ঘ্রাণ শক্তি গ্রহণ করি। যার ফলে বিভিন্ন দূষণ বা খারাপ পরিবেশ এর সংকেত পাওয়া যায়। এদিক থেকে আমরা এ সাহায্য পেয়ে থাকি।

যে কারণে মুখের চেয়ে নাক দিয়ে শ্বাস নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ

সাধারণত আমরা নাক দিয়ে শ্বাস গ্রহণ করি এবং নাক দিয়ে কার্বন ডাই অক্সাইড বের করে দেই। কার্বন-ডাই-অক্সাইড শুধুমাত্র আমাদের ক্ষতি করেনা বেশকিছু কাজে এর গুরুত্ব রয়েছে। কারণ এই উপাদানটি আমাদের শরীরের রক্ত থেকে টিস্যু এবং মস্তিষ্কে অক্সিজেনের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করে। তাছাড়া কার্বন-ডাই-অক্সাইড ব্যতীত অক্সিজেন পাওয়া অসম্ভব। এজন্যই নাক দিয়ে শ্বাস প্রশ্বাস গ্রহণ করলে আমরা পর্যাপ্ত পরিমাণ অক্সিজেন পাব এবং কার্বন-ডাই-অক্সাইড ছাড়তে পারবো।

মুখ দিয়ে শ্বাস গ্রহণ করলে যেসব ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে

নাকের মাধ্যমে যেভাবে শ্বাস গ্রহণ করা যায় ঠিক তেমনভাবেই মুখের মাধ্যমে গ্রহণ করা যায়। তবে যাদের শ্বাস গ্রহণে অসুবিধা তারা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মুখের মাধ্যমে গ্রহণ করে থাকে। বিশেষ করে হাঁপানি বা অ্যাজমা রোগীদের বেশি দেখা যায়।

কিন্তু মুখের মাধ্যমে শ্বাস গ্রহণ করলে শরীরের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটার সম্ভাবনা থাকে। মনকে শরীরের কোন অংশ একবারে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যেতে পারে। আবার এরকম করতে করতে একসময় দেখা যায় নাকের পরিবর্তে মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়ার প্রাকৃতিক ভাবে এবং স্বাভাবিক হয়ে দাঁড়ায়। ডাক্তারদের পরামর্শ যতটা সম্ভব মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়ার পরিহার করা। তবে ভারী পরিশ্রম কিংবা ব্যায়ামের সময় মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়া যাবে।

জিভে কামড়
মুখ দিয়ে শ্বাস গ্রহণ গ্রহণ করতে থাকলে যেকোনো সময় জীবের সাথে দাঁতের কামড় লেগে যাওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়। এতে করে জিভ কেটে যায় এবং মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

ফুসফুসের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা
মুখ দিয়ে শ্বাস গ্রহণ করলে বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া সহ নানা ধরনের ভাইরাস সরাসরি ফুসফুসে চলে যায়। যার ফলে ফুসফুস নানা ধরনের রোগে আক্রান্ত হয়ে জীবন হুমকির মুখে যেতে শুরু করে। এমনকি ফুসফুসের ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

বিরক্তিকর সমস্যা বৃদ্ধি
নিঃশ্বাসের সাথে দুর্গন্ধ, নাক ডাকা ইত্যাদি সমস্যার সৃষ্টি হয় মুখের মাধ্যমে শ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহণ করার কারণে। এর ফলে নিজে বিরক্ত বোধ এবং অন্যান্যরাও বিরক্ত বোধ হয়ে থাকেন।।

শুধুমাত্র সঠিক নিয়মে শ্বাস গ্রহণ করলেই চলবে না। আমাদের শ্বাস-প্রশ্বাসের পরিবেশ সুন্দর রাখতে হবে। কেননা দুর্গন্ধযুক্ত অথবা দূষিত বায়ু থেকে শ্বাস-প্রশ্বাস নিলে শরীরের জন্য উপকারের পরিবর্তে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আমরা যেহেতু প্রতিদিন ২৬০০০ বারের মতো শ্বাস গ্রহণ করে থাকি তাই এর প্রতি যত্নশীল হওয়া অত্যন্ত জরুরী। এ বিষয়ে আমরা নিজেরা সচেতন থাকবো এবং অন্যদেরকে সচেতন রাখার চেষ্টা করব

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে নাস।