সিলেট জেলার ভ্রমণ স্থান

বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ হচ্ছে সিলেট। এখানে রয়েছে পাহাড় অঞ্চল এবং সবুজ প্রাকৃতি সৌন্দর্যে ঘেরা অনেক দর্শনীয় স্থান। যা আপনার মনকে সতেজ করে তুলবে। তাই সিলেট অঞ্চলে প্রতি বছর হাজার হাজার দর্শনার্থীরা ঘুরতে আসেন। শুধুমাত্র নিজেদের মনকে শান্ত করে তুলতে। তাই চলুন দেরী না করে জেনে নেই সিলেটের দর্শনীয় স্থানগুলো সমূহকে

জাফলং

বাংলাদেশের জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র গুলোর মধ্যে জাফলং হচ্ছে একটি অন্যতম। প্রতিবছর সিলেট ভ্রমণকারীদের মধ্যে জাফলংয়ের ভ্রমণের সংখ্যা বেশি। স্থানটি সিলেট জেলা শহর থেকে ৬২ কিলোমিটার উত্তর পূর্বে অবস্থিত। ভারতের মেঘালয় সীমান্ত ঘেঁষে একটি বিশাল জায়গা জুড়ে অবস্থান করতেছে।
জাফলংকে প্রকৃতির কন্যা বলা হয়ে থাকে। এখানে রয়েছে পাথরের উপরে বয়ে যাওয়া পিয়াইন নদী। যার পানি স্বচ্ছ এবং পরিষ্কার। তাছাড়া এখানে রয়েছে ঝুলন্ত ডাউকি ব্রিজ, এবং উচু উচু পাহাড়। যেখান থেকে সাদা মেঘের খেলা উপভোগ করা যায়। এই দৃশ্যটি পর্যটকদেরকে বেশি আনন্দিত করে। বিভিন্ন ঋতুর পরিবর্তন এর সাথে সৌন্দর্য পরিবর্তন হতে থাকে। তাই অনেক পর্যটকগণ বছরে দুই থেকে তিনবার এখানে ভ্রমণে আসে। এটা শুধু ভ্রমণের স্থান নয়, জীবিকা উপার্জনের জন্য প্রতিবছর অনেক শ্রমজীবী মানুষ এখানে পাথর সংগ্রহ করতে আসে।

হযরত শাহজালাল (র)  মাজার

এই মাজার বাংলাদেশের সিলেট নগরীতে অবস্থিত। একে পূণ্যভূমি হিসেবেও বেশ খ্যাতি রয়েছে। এ মাজারে যারা আছে তাদের মধ্যে হযরত শাহজালাল (র) অন্যতম। তাই এদেরকে অলিকুলের শিরোমনি হিসেবে বলা হয়। তখনকার সময়ে তার কাছে সকল ধর্মের লোক সমাদৃত হতেন। যার কারণে প্রচুর লোকের সমাগম হতো স্থানে।
এখানে রয়েছে তার নামে একটি বড় পুকুর। সৌন্দর্য বৃদ্ধি করতে এখানে অসংখ্য গজার মাছ চাষ করা হচ্ছে। লোকমুখে শোনা যায় যে হযরত শাহজালাল এখানে আসার সময় কয়েকটি গজার মাছ নিয়ে এসেছিলেন। আর তখন থেকেই এখানে গজার মাছ চাষ করা হয়। দর্শনার্থীরা ঘুরতে এসে গজার মাছ কে খাবার দিতে আনন্দ লাভ করে। বিশেষ করে বাচ্চাদের এ প্রতি আগ্রহ বেশি থাকে। এ পুকুরের পাশে রয়েছে একটি কূপ। যেখানে রুপালি ও সোনালি রঙের বিভিন্ন ধরনের মাছ দেখা যায়।

লোকমুখে শোনা যায় যে, তিনি আধ্যাত্মিক ক্ষমতা সম্পন্ন ছিলেন। তাই নিজামুদ্দিন আউলিয়া তাকে সাদরে গ্রহণ করেন এবং তাকে এক জোড়া কবুতর উপহার দেন। সেই কবুতরটি সুরমা রঙের। এ প্রজাতির কবুতরকে জালালি কবুতর হিসেবে সারা বাংলাদেশে পরিচিত। এজন্য অনেকেই জালালি কবুতর খেতে পছন্দ করেন না। মাজারে ঢোকার সাথে সাথে ঝাকে ঝাকে কবুতরের আগমন ঘটে। যা দর্শনার্থীদেরকে বিনোদিত করে তুলে। অনেকে আবার কবুতরকে খাওয়ানোর জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়েন। মাজারের দক্ষিনে গ্রিল ঘেরা বিভিন্ন ধরনের তারকাখচিত দুই ফুট চওড়া একটি ঘর এসেছে। এর ভিতরে আছে তার চিল্লাখানা। সেখানে তিনি প্রায় ২৩ বছর আরাধনা করেছেন। দরগা মাদ্রাসা এর বিল্ডিং এর মধ্য দিয়ে মুফতি নাজিমুদ্দিনের বাড়িতে তার ব্যবহৃত খরম, বাটি এবং তলোয়ার সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে।

হযরত শাহজালাল (র) এর মূল দরগা হচ্ছে একটি পবিত্র স্থান। তাই এ স্থান ভ্রমণের সময় নিজের পবিত্রতা এবং ওই জায়গা এর পবিত্রতা বজায় রাখার চেষ্টা করতে হবে।

মালনীছড়া চা বাগান

সিলেটের অনেক জায়গায় চা বাগান থাকলেও সবচেয়ে বড় এবং প্রথম চা বাগান হচ্ছে মালনীছড়া চা বাগান। এ চা বাগানটি পনেরশো একর জায়গার ওপর বিস্তৃত। ১৮৪৯ সালে লর্ড হার্ডসন এ চা বাগানটি তৈরি করেন। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন বেসরকারি তত্ত্বাবধানে এটা চলতে থাকে। বর্তমান সময়ে এটি পর্যটকদের কাছে অতি পছন্দের স্থান হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

এখানে রয়েছে আদিম যুগের বিভিন্ন ধরনের চা প্রস্তুতকারী আসবাবপত্র। তবে এখানে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়ার সবচেয়ে ভালো। বর্তমান সময়ে চা চাষের পাশাপাশি কমলা ও রাবার চাষ করা হচ্ছে প্রচুর পরিমাণে। যার ফলে রাবার সংগ্রহ করাও দেখতে পারবেন। কমলা বাগান দেখতে আরো মনমুগ্ধকর।

সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান সিলেট

এই উদ্যানটি সাম্প্রতিককালে তৈরি করা হয়েছে। জেলা শহর থেকে খুব কাছেই উদ্যানটি অবস্থিত। এখানে প্রাকৃতিক ভাবে গড়ে উঠেছে সাতটি পাহাড় এবং এর থেকে নেমে এসেছে ঝর্ণা। তাই একে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান বলা হয় বতবে এর পূর্বে নাম ছিল রঘুনন্দন হিল রিজার্ভ ফরেস্ট।

উদ্যানে ১৪৫ প্রজাতির নানা ধরনের গাছপালা রয়েছে। তাছাড়া এই বনভূমিতে প্রায় ৬ প্রজাতির উভচর এবং ১৮ প্রজাতির সরীসৃপ প্রাণী রয়েছে। বিশেষ করে ১৪৯ প্রজাতির পাখি পর্যটকদেরকে মন কেড়ে নেয়। প্রানীগুলোর মধ্যে মুখ পোড়া, হনুমান, শকুর, লজ্জাবতী বানর, চশমা হনুমান, মেছো বাঘ সহ নানা ধরনের প্রাণী দেখা যায়। পাখিগুলোর মধ্যে রয়েছে লাল মাথা ত্রগণ, ঈগল, ঘুঘু ,ধনেশ, ময়না পাখি। এছাড়া রয়েছে নানা প্রজাতির ভয়ঙ্কর সাপ। এ জাতীয় উদ্যানের চারপাশে মোট নয়টি চা বাগান রয়েছে। এর পাশাপাশি রয়েছে স্থানীয় গ্রাম, আদিবাসীদের বসবাস এবং ফসলের জমি। এর ফলে এদের বসবাসের জীবনযাত্রা অনেকটাই এবং সম্পদের উপর নির্ভরশীল হয়ে থাকে। তবে বর্তমান সময়ে তাদের অনেকে শিক্ষিত হয় বাইরে অন্যান্য চাকরিজীবী এবং কাজে জড়িয়ে পড়েছেন। উদ্যানটির বিস্তৃতি বেশি হওয়ায় ভিতরে গাইড নিয়ে ঘুরতে যাওয়া ভালো। না হলে পথ উলটপালট করে ফিরতে পারেন। এখানে সাধারণত ২০০ থেকে ৫০০ টাকায় গাইড পাওয়া যায়। যদিও অফিস চত্বরে সামনে একটি ম্যাপ দেওয়া আছে তবে ঝুঁকি কারণের জন্য অনেকে গাইড নিয়ে যান।

তবে সব সময় খেয়াল রাখতে হবে স্থানীয়দের সাথে কোন রকম বিবাদে না জরানো হয়। যতসম্ভব অপরিচিত তার থেকে দূরে থাকা এবং তাদের থেকে কোন কিছু আদান প্রদান না করা।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে নাস।