ইমো নাকি হোয়াটসঅ্যাপ? কোনটা ব্যবহার করবেন?

বর্তমান সময়ে মেসেজিং অ্যাপ এর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় অ্যাপ দুটি হচ্ছে ইমু এবং হোয়াটসঅ্যাপ। এই দুটি অ্যাপ আমাদের দেশে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত সকল বয়সের লোকেরা এ দুটি ব্যবহার বেশি করে থাকে। আর এ দুটি অ্যাপের নাম শোনেননি এমন মানুষ পাওয়া খুব দুষ্কর। আর কমবেশি সবার মোবাইলে দুটি অ্যাপ ইনস্টল করা থাকে। আন্তর্জাতিক হিসেবে ইমু এবং হোয়াটসঅ্যাপ এর ব্যবহারকারী বিলিয়ন ছাড়িয়েছে।

এ দুটি অ্যাপস সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ব্যবহার করা যায়। শুধুমাত্র একাউন্ট খুলেই এর সমস্ত ফিচার উপভোগ করা যায়। মূলত হোয়াটসঅ্যাপ হচ্ছে ফেসবুকের মালিকাধীন একটি অ্যাপস। আর ইমু একটি নিজস্ব স্বাধীন অ্যাপ। মোবাইলের পাশাপাশি অ্যাপস কম্পিউটার কিংবা ল্যাপটপ ব্যবহার করা সম্ভব। মোবাইলের যেকোন অপারেটিং সিস্টেমে হোয়াটসঅ্যাপ এবং ইমো চালানো সম্ভব হয়। কিন্তু ট্যাবলেট ডিভাইসটিতে হোয়াটসঅ্যাপ অপটিমাইজ হয় না কিন্তু ইমুতে খুব সহজে হয়।

হোয়াটসঅ্যাপ নাকি ইমু কোনটি ব্যবহার করবেন

হোয়াটসঅ্যাপ এবং ইমো দুইটি ম্যাসেজিং অ্যাপ হলেও এর মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে। প্লে স্টোর হচ্ছে অ্যাপ ডাউনলোডের বিশ্বের সবচেয়ে বড় এবং জনপ্রিয় মাধ্যম। প্লে স্টোরে হোয়াটসঅ্যাপের রেটিং হচ্ছে ৪.৩ এবং ইমু অ্যাপ সেটিং হচ্ছে ৩.৯। অর্থাৎ ইমো অ্যাপ এর তুলনায় হোয়াটসঅ্যাপ এর রেটিং বেশি। শুধু রেটিং এর মধ্যে আমরা সীমাবদ্ধ থাকবে না। আমরা এই পোস্টেও হোয়াটসঅ্যাপ এবং ইমু এর মধ্যকার সকল প্রকার পার্থক্য গুলো নিয়ে আলোচনা করব। এর সাথে সুবিধা-অসুবিধা নিয়েও বলবো।

ইন্টারফেস

যেহেতু উভয়ই মেসেজিং অ্যাপ, তাই দুটির মধ্যে সাদৃশ্য থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু এর মধ্যেও কিছু পার্থক্য রয়েছে। ইমু ইউজারদের ইন্টারফেস একটু জটিল হয়। এদিক থেকে হোয়াটসঅ্যাপ ইউজাররা সরল ভাবে ব্যবহার করতে পারে। হোয়াটসঅ্যাপের প্রতিটি ফিচার সুন্দরভাবে গুছিয়ে এবং ধাপে ধাপে সাজানো। যার ফলে কোন কিছু খুঁজে পেতে খুব সহজ হয়। জটিলতার সম্মুখীন হতে হয় না। হোয়াটসঅ্যাপে ডার্ক মোড চালু হয়েছে। কিন্তু ইমোতে এখন পর্যন্ত কোন ডাউট নেই।

কলিং এবং ম্যাসেজিং

টেক্সট মেসেজ এর পাশাপাশি অডিও এবং ভিডিও কলিং সিস্টেম উভয় অ্যাপে রয়েছে। ইমুতে একটি দারুন মজার বিষয় রয়েছে। যখন কেউ আপনাকে একটি মেসেজ করতে থাকবে তখন ওই মেসেজ লেখার সময় ওই ব্যক্তি কি লিখছে, তা রিয়েল টাইমে দেখা যাবে। যার ফলে সব জেনে যাওয়া যায়। এ সুবিধা ইমু ছাড়া আর কোথাও পাওয়া যায় না। তবে নিজের নিরাপত্তার কথা ভেবে এ ফিচারটি বন্ধ করা যায়। বন্ধ করার জন্য প্রাইভেসি সেটিং এ গিয়ে ফিচারটি অফ করতে হবে। যদি পুনরায় প্রয়োজন হয় তাহলে প্রাইভেসি সেটিং এ গিয়ে পুনরায় অন করে দিলেই হবে।

দুটি অ্যাপসে কলিং সিস্টেম অত্যন্ত ভালো। অনেক ইউজাররা দুটি কলিং কোয়ালিটি সমান হিসেবে বিবেচনা করে। তবে ধীরগতি ইন্টারনেটের ক্ষেত্রে ইমো এর পারফর্মেন্স একটু ভালো। এজন্য বিশেষ করে বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে ইমো ইউজার বেশি। কারণ গ্রামগঞ্জে ইন্টারনেটের গতি ধীর। তাদের কাছে হোয়াটসঅ্যাপে তুলনায় ইমুতে কম ইন্টারনেটে ভালো পারফর্মেন্স দেয় বলে তারা জানিয়েছেন।

অ্যাকাউন্ট তৈরি

হোয়াটসঅ্যাপের শুধুমাত্র মোবাইল নাম্বার দিয়ে অ্যাকাউন্ট খোলার সিস্টেম রয়েছে। কিন্তু ইমুতে ফোন নাম্বার এর পাশাপাশি ফেসবুক দিয়ে লগইন করা যায়। যার ফলে ইমুতে এদিক থেকে ব্যাপক সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে।

অ্যাক্টিভ স্ট্যাটাস

অ্যাক্টিভ স্ট্যাটাস মেসেজিং অ্যাপ এর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হোয়াটসঅ্যাপে চ্যাটিং স্ট্যাটাস ইচ্ছামত অন অফ করা যায়। অর্থাৎ লাস্ট কতদিন আগে অ্যাক্টিভ ছিল তা হাইড করা। তবে দুঃখের বিষয় হচ্ছে যে এ ফিচারটি অফ রাখলে আপনি অন্য কারো লাস্ট সিন দেখতে পারবেন না। যার ফলে অনেকেই এ ফিচারটি বন্ধ রাখে। অন্যদিকে ইমুতে ফিচারটিও রয়েছে।

কন্টাক্ট অ্যাড

বেশিরভাগ ইমু ব্যবহারকারীদের একটি অভিযোগ থাকে। সে অভিযোগটি হচ্ছে, যে কেউ মোবাইল নাম্বার ব্যবহার করে কন্টাক্ট লিস্টে এড হয়ে মেসেজ করতে পারে। যার ফলে অনেকেই বিরক্ত হয়ে যান। অনেকে অপরিচিত মানুষের কাছ থেকে মেসেজ পেয়ে লাঞ্ছিত হন। অন্যদিকে হোয়াটসঅ্যাপে এ সিস্টেম নেই। কাউকে যদি এক করা হয় কন্টাক্ট লিস্টে তাহলে তার সাথে মেসেজ করতে পারবে। অপরিচিত কেউ মেসেজ দিলে তার ফিল্টারে সে জমা হয়। অর্থাৎ আলাদাভাবে দেখায়। এদিক থেকে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীরা সুবিধা পায়।

ফাইল শেয়ারিং

হোয়াটস অ্যাপের সাহায্যে যেকোনো ধরনের ফাইল আদান প্রদান করা যায়। যেমন- ডুকুমেন্ট, ভিডিও, মিউজিক ইত্যাদি। ইমুতে শুধুমাত্র অডিও-ভিডিও-ছবি এবং পিডিএফ পাঠানো সম্ভব। তবে বর্তমানে আপডেট হওয়ার কারণে নতুন কিছু ডকুমেন্ট পাঠানো সম্ভব হচ্ছে।

এড এবং নোটিফিকেশন

ইমোতে কেউ যদি আপনাকে এড করে তাহলে নোটিফিকেশন আসে। দেখা গেছে অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ কাজের সময় কন্টিনিউ নোটিফিকেশন আসতে থাকে। যার ফলে কাজে ব্যাঘাত ঘটে। অনেকের কাছে অশোভনীয় এবং বিরক্তিকর। কিন্তু হোয়াটসঅ্যাপে এরকম নোটিফিকেশন আসে না। নির্দিষ্ট স্টোরে জমা হয়ে থাকে। অ্যাপ ওপেন করার পর তার দেখা যায়।

উপরের আলোচনায় সকল প্রকার সুবিধা-অসুবিধা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এখন আপনি বিবেচনা করবেন কোনটা ব্যবহার করবেন।

Leave a Comment