এন্ড্রয়েড ফোনের গতি বাড়াবেন কিভাবে?

আমাদের ব্যবহৃত স্মার্টফোনগুলো মাঝেমধ্যেই ধীরগতি হয়ে যায়। আরে এটা খুব বিরক্তিকর একটি ব্যাপার। তবে মজার ব্যাপার হচ্ছে যে এর গতি নির্ভর করে ব্যবহারকারী ব্যবহারের উপর। আর বাকিটা নির্ভর করে ফোনের কনফিগারেশনের উপর। যদি স্মার্টফোন ব্যবহার করার সময় কিছু নিয়ম মেনে চলা যায় তাহলে এ সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় না। তাই আমরা এই পোস্টে স্মার্টফোনের গতি বাড়ানোর কিছু উপায় নিয়ে আলোচনা করব।

অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ আনইন্সটল করা

এন্ড্রয়েড ফোনের গতি বাড়ানোর জন্য সর্বাধিক কার্যকর উপায় হচ্ছে অপ্রয়োজনীয় সকল প্রকার অ্যাপ আনইন্সটল করে দিতে হবে। বর্তমান সময়ে মোবাইল ফোনে প্রচুর পরিমাণ স্টোরেজ থাকার ফলে আমরা অনেক অ্যাপ ইন্সটল করে থাকি। যার ফলে আমাদের ফোন মেমোরির বেশিরভাগ ভরে যায়। অ্যাপগুলো শুধু ফোনে স্টোরেজ ভরে না বরং Ram এর জায়গা দখল করে নেয়। যার ফলে ফোনগুলো ধীরগতি হয়ে পড়ে। তাই চেষ্টা করতে হবে যে যতটা সম্ভব এন্ড্রয়েড ফোনে কোন অ্যাপ ইনস্টল রাখা।

ইন্টার্নাল মেমোরি খালি রাখা

ফোনের স্পিড বাড়ানোর জন্য আরেকটি সবচেয়ে কার্যকরী উপায় হচ্ছে ইন্টার্নাল মেমোরি যতটা সম্ভব খালি রাখা। এখানে খালি রাখা বলতে একেবারেই 0 রাখতে বলা হচ্ছে না। প্রয়োজনীয় চাহিদা অনুযায়ী শুধু রাখবেন। বেশিরভাগ ফাইল গুলো যতটা সম্ভব এক্সটার্নাল মেমোরি তে রাখার চেষ্টা করবেন। এতে করে ফোন নাম্বারের উপর চাপ কমে যায়। আর ফোনের গতি বেড়ে যায়। বেশি স্পেস যুক্ত কোন ফাইল না রাখা সবচেয়ে ভালো। যতটা সম্ভব মেমোরি কার্ডে রেখে যে কোন অ্যাপ ইন্সটল করার চেষ্টা। এর কারণে অ্যাপগুলো স্মুথ ভাবে চালানো সম্ভব হয় এবং ফোনের স্পিড আরো বৃদ্ধি পায়।

অ্যাপ cache ডিলিট করা

আমরা কমবেশি সবাই ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, মেসেঞ্জার এবং গুগল ক্রোম ব্যবহার করে থাকি। এগুলো অ্যাপস প্রচুর পরিমাণে cache তৈরি করে। এগুলোর ডাটাগুলো মুক্ত অ্যাপ থেকে ক্লিয়ার করে দিতে হবে। তবে এটা খেয়াল রাখতে হবে ক্লিয়ার ডাটা করার সময় দরকারি ফাইল সব গুলো মুছে যাবে। এমনকি পুনরায় লগইন করার সম্ভাবনা থাকতে পারে।

ডাটা সেভার মোড

আপনি যে ব্রাউজার দিয়ে ব্রাউজ করেন না কেন সেটি ডাটা সেভ মোড অন করে নিতে হবে। এর ফলে আপনি ওয়েবসাইটগুলোর লোড দ্রুত পাবেন এবং স্পিড ভালো হবে। তা না হলে আপনার ব্রাউজিং কোয়ালিটি অনেকটা বিরক্ত করা হবে।

ওয়াইফাই কানেকশন অপটিমাইজ

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায় দুর্বল ওয়াইফাই কানেকশন এর ফলে ফোন দারুন স্লো হয়ে যায়। সেটা খুব কম লোকেই বুঝতে পারে। এজন্য দুর্বল কানেকশন থেকে দূরে থাকতে হবে। এজন্য ওয়াইফাই কানেকশন অপটিমাইজ করা অতি জরুরী।

টাস্ক কিলিং

বেশিরভাগ স্মার্টফোন ব্যবহারকারীরা মনে করেন টাস্ক ম্যানেজার বারবার ক্লিয়ার রাখলে ফোন বেশি স্পিড পাওয়া যায়। তাই তারা বারবার এক অ্যাপ থেকে অন্য অ্যাপসে প্রবেশের সময় টাস্ক ম্যানেজার কেটে দেন। এ ধারণাটা সম্পূর্ণ হচ্ছে ভুল। একটি অ্যাপ কেটে অন্য প্রবেশের সময় প্রচুর পরিমাণে মেমোরি খরচ হয়ে থাকে। এর কারণেও মোবাইল ফোন স্লো হয়ে যেতে থাকে। অতিরিক্ত মাত্রায় কোন কিছুই ভাল নয়। ঠিক এমনই বারবার টাস্ক ক্লিয়ার করে না করাই ভালো। আর ফোনকে তৈরি করতে সম্পূর্ণ রাখুন।

এনিমেশন

অ্যানিমেশন মোবাইল ফোনের গতি কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ। মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত অ্যানিমেশন ব্যবহার করা হলে ফোনের গতি কমে যায়। তাই যতটা সম্ভব কম এনিমেশন ব্যবহার করা। এছাড়া যতটা সম্ভব ওয়ালপেপার অ্যানিমেশন ফটো পরিহার করা।

সঠিক লঞ্চার ব্যবহার

আমরা সাধারণত ফোনের ডিফল্ট লাঞ্চারটি ব্যবহার করে থাকি। কিন্তু সবসময় যেয়ে লাঞ্চার ফোনের জন্য ভালো তা নয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ফোনের লাঞ্চার এর কারণে মোবাইল গতি কমে যায়। তাই বিভিন্ন রিসার্চ এর মাধ্যমে বুঝতে হবে যে লাঞ্চার গতিশীল লঞ্চার ব্যবহার করা। এতে ফোনের গতি কিছুটা হলেও বাড়বে। অনেক লাঞ্চার রয়েছে যেগুলো এন্টিভাইরাস এর কাজ করে থাকে। এসব লাঞ্চার ব্যবহার করা ফোনের জন্য উপকারী।

অ্যাপস আপডেট রাখা

অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপস গুলো আপডেট দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি এগুলো আপডেট না রাখা হয় তাহলে ফোনের গতি কমে যেতে পারে। এজন্য তেমন কোন কাজ করতে হবে না। শুধু আপডেট আসলে আপনার কাছে অনুমতি চাইবে সে অনুমতি দিলে অটোমেটিক আপডেট দেওয়া শুরু করবে। তবে এজন্য আপনার প্রচুর পরিমাণে ডাটা খরচ হতে পারে।

ডেভেলপার অপশন চালু করা

ফোনের গতি বাড়ানোর জন্য অবশ্যই ডেভেলপার অপশনটি চালু রাখতে। এজন্য প্রথমে ফোনের সেটিং অপশনে যেতে হবে তারপর এবাউট ফোনে যেতে হবে। এরপর বিল্ট অপশনে বারবার প্রেস করতে হবে। এরপর অটোমেটিক ফোনে ডেভেলপার অপশন চালু হবে। কাজগুলো ধাপে ধাপে করলেই ফোনের গতি তারপর থেকে বাড়তে শুরু করবে।

ফোন রিসেট

এন্ড্রয়েড ফোনের গতি বাড়ানোর জন্য সর্বশেষ ধাপ হচ্ছে ফোন রিসেট দেওয়া। যদি কোন উপায় অবলম্বন না করে স্পিড বাড়ানো সম্ভব না হয় তাহলে ফোন রিসেট দিতে হবে। একে হার্ড রিসেট ও বলা হয়ে থাকে। রিসেট দিলে ফোন নাম্বারের সব ডাটা চলে যাবে অর্থাৎ ফোন নতুন কেনার মত হয়ে যায়। তাই প্রয়োজনীয় ডাটা গুলো ব্যাকআপ করে রাখতে হবে। তবে বারবার রিসেট দেওয়া যাবে না। ছয় মাসে সর্বোচ্চ একবার রিসেট দেওয়া যাবে ।

তাহলে আর যদি কোনো উপায়েই সম্ভব না হয় তাহলে মোবাইল বদলে ফেলার চেষ্টা করবেন। আর সবসময় খেয়াল রাখবেন স্টার্টআপ অ্যাপসগুলো নিয়ন্ত্রণ রাখতে। এগুলো নিয়ন্ত্রণে না রাখলে যে কোন সময় ফোন ধীরগতি করে দিতে পারে। অনেকটা ভাইরাসের মত কাজ করে থাকে।

Leave a Comment