আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনের চমৎকার কিছু তথ্য

পৃথিবীর শুরু থেকেই মহাকাশ নিয়ে অনেকের কৌতুহল রয়েছে। পৃথিবীর বাইরে কি রয়েছে কি ঘটছে সেগুলো জানার আগ্রহ সবার মনেই জন্মে। আর এগুলো নিয়ে কোনো তথ্য পেলেই আমাদের আগ্রহ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। তাই কৌতূহল প্রিয় মানুষরা ছুটে চলেছে অজানা অসীম মহাকাশের তথ্য সন্ধানে।

আর যারা তথ্য সন্ধানে ছুটে চলেছেন তারা হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের বিজ্ঞানী ও গবেষকরা। হাজার বছর চেষ্টার ফলে তারা পৌঁছতে পারছে মহাকাশে। আর কিছু তথ্য তারা খুঁজে পেয়েছে। তারা পৌঁছেছে অসীম আকাশের বুকে। আর সেখানে তৈরি করেছে তাদের একটি ঘাঁটি। আমরা যেমন একস্থান হতে অন্য স্থানে যাওয়ার জন্য যেকোন যানবাহন ব্যবহার করে থাকি। তেমনি মহাকাশে ভ্রমণের জন্য নির্দিষ্ট বাহন দরকার হয়। সেটা হতে পারে রকেট কিংবা আধুনিক আকাশযান। এক্ষেত্রে রকেটের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি। আর সেখানে তৈরি করা হয়েছে মহাকাশ স্টেশন। আবার মহাকাশ স্টেশন নিয়ে অনেকের জানার আগ্রহ রয়েছে । কেননা পৃথিবীর মতো মহাকাশেও একই রকম ভাবে চলাফেরা করা যায়। তাহলে সেখানে মানুষ কিভাবে খাওয়া-দাওয়া করে , চলাফেরা করে এবং সাধারণ জীবন যাপন করে তা নিয়ে জানার আগ্রহ সবার।

তাই আজ আপনাদের এই পোস্টের মাধ্যমে মহাকাশযানের কিছু চমৎকার তথ্য এবং মজার মজার ঘটনা গুলো নিয়ে আলোচনা করব। যা আপনার মনের অজানা কৌতুহলকে শান্ত করে দিবে।

ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশন হচ্ছে একটি বিশাল আকৃতির মহাকাশযান। এটি নিয়মিত ভাবে পৃথিবীর কক্ষপথে চারদিকে ভ্রমণ করতেছে। এই বিশাল মহাযানটি পৃথিবী হতে ২৪০ মাইল দূরে ভেসে বেড়াচ্ছে। মূলত যারা মহাকাশে ভ্রমণ করে তাদের বাসস্থান এর জন্য এ যান ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এতে ব্যবহারকারীর সকল সুযোগ-সুবিধা মাফিক তৈরি করা হয়েছে। এখানে মূলত 6 জন স্পেস ক্রু থাকে। এখানে তাদের পাশাপাশি অতিথি অভ্যর্থনা ব্যবস্থাও রয়েছে।

রাশিয়া, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র সহ মোট ১৫ টি দেশের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে ইন্টার্নেশনাল স্টেশন তৈরি করা হয়েছে। যা পৃথিবী থেকে সবচেয়ে বড় এবং ব্যয়বহুল ভাবে তৈরি করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সমঝোতার অংশ হিসেবে ধরা হয় যে, এ স্টেশনটি মানব সভ্যতার একটি অনন্য অর্জন। যা পৃথিবীতে আরও উন্নত করে তুলছে সাহায্য করবে। ২০, নভেম্বর ১৯৯৮ সালে এটি চালু করা হয়।

মহাকাশ স্টেশনের চলার গতি

আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন টি প্রতিদিন আমাদের এই বৃহৎ পৃথিবীকে 16 বার প্রদক্ষিণ করে। আমরা সাধারণত জানি গুলির বুলেটের গতি অনেক বেশি। এগুলির বুলেটের দশগুণ বেশি বেগে এই পৃথিবীতে প্রদক্ষিণ করছে। গাণিতিক অর্থে এর প্রতি ঘন্টায় গতি ২৮০০০ কিলোমিটার।

নভোচারীদের খাওয়া-দাওয়া এবং টয়লেট

মানুষ যেখানেই যাক না কেন সেখানে তাঁর খাওয়া-দাওয়া এবং মলত্যাগের প্রয়োজন হয়। কেমনভাবে মহাকাশযানে এগুলো সম্পূর্ণ করতে হয়। কিন্তু অনেকের মনে প্রশ্ন থাকে তারা এগুলো কিভাবে সম্পন্ন করে। কেননা পৃথিবীর চেয়ে মহাকাশে পুরোটাই উল্টো হয়ে থাকে।

ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশনে মূলত দুইটি টয়লেট হয়েছে। যা নভোচারীরা তাদের প্রয়োজনে ব্যবহার করতে পারে। এতে এমন সিস্টেম রয়েছে যে, প্রয়োজনীয় মূত্র ফিল্টারিং করে পুনরায় পানযোগ্য পানীয় হিসেবে পরিণত করে তুলে। তবে দুঃখের বিষয় হচ্ছে যে, সামান্য পরিমাণ তরল পদার্থ ইন্টারন্যাশনাল স্পেস এর জন্য দুর্ঘটনার সূত্রপাত ঘটাতে পারে। সেখানে শুধু তরল পদার্থ ব্যবহারের জন্য এবং স্ট্রোক ব্যবহার করা হয়। স্ট্র এর সাহায্যে পানি পান করা হয়ে থাকে। আর নভোচারীরা ট্রে থেকে খাবার খেয়ে থাকে। আর এটি এগুলোতে ম্যাগনেট এর মাধ্যমে মহাকাশযানের সাথে আটকানো থাকে। ম্যাগনেট ব্যবহার না করলে খাবারগুলো হাওয়ায় ভেসে থাকবে।

মহাকাশ কেন্দ্র থেকে পৃথিবীর দৃশ্য

যখন গভীর রাত হয় তখন পৃথিবী হতে ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশন হচ্ছে সবচেয়ে বড় উজ্জ্বল বস্তু। যার স্থান তৃতীয় তম। রাতের আকাশে এটি খালি চোখে দেখা যায়। যদি রাতের আকাশে কোন উজ্জ্বল কিছু দ্রুত ছুটে যেতে দেখা যায় তাহলে সেটি হচ্ছে ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশন। অনেকে ভুল করে নানা ধরনের গুজব ছড়ায়।

শারীরিক পরিবর্তন

যখন স্পেসে পৌঁছানো হয় তখন নভোচারীদের বিভিন্ন ধরনের শারীরিক পরিবর্তন হতে শুরু করে। যেমন পায়ের পাতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, শিশু যখন জন্ম নেয় তখনকার মত কোমল হয়ে যায় শরীর, গ্র্যাভিটি’র ভাবে হাড় গুলো আস্তে আস্তে ক্ষয় হতে থাকে। এসব সমস্যা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য তাদের নিয়মিত ব্যায়াম করতে হয়।

ইন্টারনেট ব্যবস্থা

নভোচারীদের সবারই একটি করে ল্যাপটপ দেওয়া হয়ে থাকে। সাথে ইন্টারনেট এর ব্যবস্থা ও যুক্ত থাকে। এর সাহায্যে পৃথিবীতে যে কোন বন্ধু-বান্ধব কিংবা পরিবারের সাথে যোগাযোগ করতে পারবেন। ইন্টারনেট ব্যবস্থা থাকায় তারা যেকোনো সময় লাইভে আসতে পারবেন এবং সিনেমা উপভোগ করতে পারবেন। সেখানে প্রতি সেকেন্ডে ইন্টারনেট স্পিড হচ্ছে 600 মেগাবাইট। গবেষণা কেন্দ্রটি ইন্টারনেট স্পিড বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা করতেছে।

মহাকাশযানটির আকৃতি
এ বৃহৎ মহাকাশযানটি মানুষের দ্বারা তৈরি করা হয়েছে। এর লম্বাকৃতি প্রায় 357 ফুট। এটি প্রায় 460 টন ভর নিয়ে মহাকাশে ঘুরতেছে।

মহাকাশের সময়ের পরিবর্তন

এখানে মজার বিষয় হচ্ছে যে, উক্ত স্পেস থেকে নভোচারী পৃথিবী অপেক্ষা কম বয়স নিয়ে ফিরে আসতে পারেন। মহাকাশ যানটি দ্রুত গতির ফলে পৃথিবীর চেয়ে কোন সময় কাটে সেখানে। এ সময় বিশাল একটি সংখ্যা, তবে তেমন কিছু না। মহাকাশে 6 মাস কাটানোর পর পৃথিবীতে এসে নভোচারীরা ০.০০৫ সেকেন্ড ছোট হন।

সহজ কাজ কঠিন

পৃথিবীর মতো সেখানে সহজে সকল কাজ করা যায় না। চুল কাটার মত সহজ কাজে সেখানে অনেক ঝামেলা পোহাতে হয়। যার কারণে ভ্যাকুয়াম এর সংযুক্ত থাকা ক্লিপার এর মাধ্যমে চুল কাটতে হয়। এসময় খুব সর্তকতা অবলম্বন করতে হয়। যদি চুল আশেপাশে একবার ছড়িয়ে যায় তাহলে স্পেস টির বিভিন্ন যন্ত্রাংশের ফিল্টারিং হয়ে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।

Leave a Comment