গুগোল মিট কি? এর ব্যবহার জানেন তো?

করোনাভাইরাস এর আগমনের ফলে ভিডিও কনফারেন্সিং ক্রমেই বেড়ে চলেছে। গুগোল মিনিট হচ্ছে একটি জনপ্রিয় কনফারেন্স টুল। এটি গুগলের একটি অংশ। এর মাধ্যমে সহজেই ভিডিও কলে তথ্য আদান-প্রদান করা সম্ভব হয়। এটি অন্যান্য কলিং অ্যাপ থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন রকম।

গুগোল মিট এবং যেসব কাজে ব্যবহার করা হয়

গুগোল মিট কি

মূলত এটি হচ্ছে একটি গুগলের ব্যবসা জনিত ভিডিও কনফারেন্সিং ফিচার। এর পূর্ববর্তী নাম ছিল গুগোল হ্যাংআউটস। যা বর্তমানে গুগোল মিট নামে পরিচিত। তাছাড়া এতে যুক্ত হয়েছে গুগল চ্যাট এর বিভিন্ন ফিচারসমূহ। মোটকথা বিভিন্ন ধরনের আপডেট ফিচার নিয়েই তৈরি হয়েছে গুগল মিট। অসংখ্য ফিচার থাকার কারণে বর্তমান সময়ে এটি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ব্যবহারের পরিমাণ বেড়ে গেছে। আবার অনেকে জুম অ্যাপস বিশ্বস্ততা মনে করে না। যার ফলে গুগলের প্রোডাক্ট হিসেবে গুগোল মিট কনফেরেন্সিং টুল সবার প্রথম পছন্দ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভবিষ্যতে আরো নতুন নতুন ফিচার যুক্ত হতে পারে।

গুগোল মিট একদম ফ্রি?

এই কনফারেন্সিং ভিডিও টুল কিছু লিমিটেশন সহ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে যে কেউ ব্যবহার করতে পারেন। যারা ফ্রিতে ব্যবহার করে থাকেন তারা একটানা 1 ঘন্টা মিটিংয়ে 100 জন পর্যন্ত অংশগ্রহণ করতে পারেন। এটি শুধু ফ্রী ব্যবহারকারীদের জন্য। কিন্তু যারা গুগোল g-suite ব্যবহার করেন তাদের জন্য রয়েছে বিশাল সুবিধা। g-suite এ টানা ৩০০ ঘন্টা এবং সর্বোচ্চ ১৫০ জনকে নিয়ে মিটিং এ অংশগ্রহণ করা যায়। এর বিস্তারিত আলোচনা পরবর্তী পোস্টে আলোচনা করা হবে।

ব্যবহারের নিয়ম কানুন

গুগলের অন্যান্য টুলের মত এর ব্যবহার অত্যন্ত সহজ। খুব কম সময়ের ভিতর এর সম্পর্কে সহজে বেসিক ধারণা পাওয়া যায় এবং তা চালানোর সক্ষম হয়। নিচের নিয়ম কানুন দেয়া হলো:
প্রথমে যে কোনো কম্পিউটার বা মোবাইলে প্রয়োজন হবে। অবশ্যই ডিভাইসের সাথে ইন্টারনেট সংযুক্ত থাকতে হবে।
ব্রাউজার থেকে যেভাবে গুগোল মিটি অংশগ্রহণ করতে হবে
১. প্রথমে meet.google.com এ প্রবেশ করতে হবে
২. তারপর নিউ মিটিং অপশনে ক্লিক করতে হবে এবং দেখানো নির্দেশনা অনুযায়ী অনুসরণ করতে হবে।
৩. তারপর এই লিঙ্কে ক্লিক করে নতুন মিটিং তৈরি করতে হবে, meet.new

জিমেইল থেকে গুগল মিট যেভাবে তৈরি করতে হয়

১. সর্বপ্রথম জিমেইল এ প্রবেশ করতে হবে
২. বাম দিকে অবস্থিত মেনু থেকে স্টার্ট মিটিং অপশনে ক্লিক করলেই নতুন মিটিং চালু হয়ে যাবে।

স্মার্ট ফোনের সাহায্যে তৈরি

১. প্লে স্টোর থেকে গুগল মিট অ্যাপস ইনস্টল করে নিতে হবে।
২. ইনস্টল করার পর তা ওপেন করে যেকোনো জিমেইল দিয়ে অ্যাকাউন্ট লগইন করতে হবে।
৩. লগইন করার পর নিউ মিটিং এ ক্লিক করলেই নতুন একটি মিটিং চালু হয়ে যাবে।

যেকোনো একটি মিটিং অ্যাকাউন্ট তৈরি করার পরে অটোমেটিক একটি লিংক জেনারেট হয়ে থাকে। অন্যান্য যাদেরকে মিটিংয়ে অংশগ্রহণ করাতে হবে তাদেরকে এর লিংকটি দিয়ে দেওয়া হয়। এ লিংকের মাধ্যমে অন্যান্য ইউজাররা মিটিংয়ে অংশগ্রহণ করতে পারবে। আর যদি গুগল ক্যালেন্ডার বা জিমেইল সিডিউল থাকে তাহলে মিটিং ইনভাইট এর মাধ্যমে ব্যক্তিদের কাছে স্বয়ংক্রিয়ভাবে লিংক চলে যায়।

গুগোল মিট এ জয়েন করার নিয়ম সমূহ

গুগোল মিনিটে খুব সহজেই জয়েন করা সম্ভব হয়। অন্যান্য ভিডিও কনফারেন্সিং টুলের মত ঝামেলা পোহাতে হয় না। নিয়ম সমূহ নিচে দেওয়া হল:
১. যেকোনো ব্রাউজার কিংবা অ্যাপ থেকে গুগল মিট এ প্রবেশ করতে হবে।
২. প্রবেশ করার পর পাশে দেখা যাবে জয়েন মিটিং নামে একটি বাটন এবং বাটনে ক্লিক করতে হবে।
৩. বাটনে প্রেস করার পর মিটিং কোড টাইপ করতে হবে। মিটিং কোড বসানোর পর ইন্টার প্রেস করলেই মিটিংয়ের জয়েন হয়ে যাবে।
৪. যদি মিটিং হোস্ট জয়েন করার জন্য কোন লিংক ব্যবহার করেন তাহলে সেই লিঙ্কে 1 ক্লিক করলেই জয়েন হয়ে যাবে।

এজন্য বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মিটিং এ জয়েন করার জন্য লিংক ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

গুগোল মিট এর সেটিং

মিটিং তৈরি এবং জয়েন এর পাশাপাশি এতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সেটিং কাস্টমাইজ এর প্রয়োজন হয়। ব্যবহারকারীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখন আপনাদেরকে এই সেটিং নিয়ে আলোচনা করা হবে কিভাবে আপনি এগুলো কাস্টমাইজ করবেন।

ভিডিও কনফারেন্সের সময় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে কিভাবে পার্টিসিপেন্টদের প্রদর্শিত করা হবে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটি ডিফল্ট ভাবে ফটো দেওয়া থাকে। কাস্টমাইজ করতে চাইলে নিজেও কাস্টমাইজ করতে পারবেন। আপনাকে যা যা করতে হবে:
১. টাইলট পদ্ধতি- এ পদ্ধতিতে ছোট ছোট টাইটেলে 16 জনকে দেখানো সম্ভব হয়। বাকিগুলো মধ্যে কেউ প্রেজেন্ট করে থাকে তাহলে তার সাইডবারে প্রদর্শিত করা হয়।
২. স্পট টাইটেল- এ পদ্ধতিতে শুধুমাত্র প্রেজেন্টেশন কারীদের স্ক্রিনে দেখানো হবে।
৩. সাইডবার: অ্যাক্টিভ স্পিকারকে মাঝখানে রেখে তারপর পাশে ছোট ছোট টাইলসে অন্যান্যদের প্রদর্শন করা যায়।

তা ছাড়াও বিভিন্ন পার্টিসিপেন্টদের পিন করে রাখার সুবিধা রয়েছে। যার সাহায্যে যেকোনো সময় চাইলে নির্দিষ্ট পার্টিসিপেন্টদেরকে স্ক্রিনের মাঝখানে রাখা যায়। মিটিংয়ে অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের স্পিকার মিউট করে রাখতে পারে যেকোনো সময়। আর যিনি মিটিং তৈরি করবেন তিনি যে কোনো সময় যে কোনো ব্যবহারকারীকে মিউট করে দিতে পারবেন। অর্থাৎ মিটিং তৈরি lকারীর সকল ক্ষমতা রয়েছে।

কোন কিছু প্রেজেন্টেশন করার জন্য এখানে রয়েছে স্লাইট শেয়ার সিস্টেম। যার মাধ্যমে আপনার প্রেজেন্টেশনকে মিটিং তৈরিকারী এর কাছে স্লাইট শেয়ার এর মাধ্যমে সবকিছু বুঝিয়ে দিতে পারবেন।

Leave a Comment